শিরোনাম

নরসিংদীতে সরবরাহ বাড়ায় লোকসানের আশঙ্কায় সবজি চাষিরা

নরসিংদী প্রতিনিধি  |  ১৭:১৭, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৮

নরসিংদীতে উৎপাদন বাড়ছে শীতকালীন শাক-সবজির। মৌসুমের শুরুতে আশাব্যঞ্জক ফলন ও ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় লাভবান হয়েছিলেন চাষিরা। তবে উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় সব ধরনের সবজির দাম কমছে বলে জানান তারা। এতে উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় লোকসানে পড়ার আশঙ্কা সবজি চাষিদের।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় শীতকালীন শাক-সবজির আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় সাড়ে ৭ হাজার হেক্টর জমি। আবাদ হয়েছে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার হেক্টর।সবজি চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নরসিংদীর ৬ উপজেলার ফসলি জমিতে শীতের শুরুতেই আবাদ হয়েছে শীতকালীন শাক-সবজি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, লালশাক, লাউ, মুলা, বেগুনসহ অন্যান্য সবজির ফলন ভালো হয়েছে। শীতের শুরুতে পুরোদমে শাক-সবজির ফলন না হলেও ন্যায্য দাম পাওয়ায় লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা।

জেলার সবজির পাইকারি বাজারগুলোয় কদর বেড়েছে শীতকালীন এসব সবজির। প্রতিদিন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের পাইকারি ক্রেতারা এসে কিনে নিচ্ছেন এখানকার শাক-সবজি। পাইকারি বাজার বেলাবো উপজেলার বারৈচা, নারায়ণপুর, রায়পুরার জঙ্গি শিবপুর, শিবপুর উপজেলা সদর, সিএন্ডবি বাজার, পালপাড়া বাজারসহ সবজির সবগুলো পাইকারি বাজারে সবজির ন্যায্য দাম পাওয়া যাচ্ছে। তবে সবজির উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় সবধরনের সবজির দাম কমছে বলে জানান তারা। সার, কীটনাশকসহ উৎপাদন খরচ না কমায় লোকসানের আশঙ্কা তাদের।

পলাশ উপজেলার সেকান্দরদী, ঝালকাটা, পিতাম্বরদী গ্রামের সবজি চাষি ফায়জুল ইসলাম, খোকন মিয়া, জহিরুল ইসলাম, আবুল হোসেন বলেন, মৌসুমের শুরুতে শীতকালীন শাক-সবজির ফলন বাম্পার না হলেও সন্তোষজনক। এখন দামও পাওয়া যাচ্ছে আশানুরূপ। কিন্তু প্রতি সপ্তাহেই পাইকারি বাজারে সবধরনের সবজির সরবরাহ বাড়ায় দাম কেজিপ্রতি ৫ থেকে ৭ টাকা কমছে। এভাবে কমতে থাকলে লোকসান গুনতে হবে।

নরসিংদী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ আব্দুল হাই বলেন, রাজধানীর চাহিদার প্রায় ৪০ ভাগ সবজির সরবরাহ হয়ে থাকে নরসিংদী জেলা থেকে। মৌসুমের শুরুতে সঠিক সময়ে একই ধরনের সবজির আবাদ না করে প্রকারভেদে বিভিন্ন ধরনের সবজির আবাদ করতে পারলে চাষিদের লোকসানের আশঙ্কা কম থাকে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত