শিরোনাম

ভালুকায় বেগুনের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের মাথায় হাত

সাখাওয়াত হোসেন, ময়মনসিংহ  |  ১৬:২৫, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৮

ময়মনসিংহে ভালুকায় এবার রবি মৌসুমে বেগুনের বাম্পার ফলনহলেও কৃষকের মাথায় হাত। বাজারজাতকরনে দালাল ফরিয়াদের উপর নির্ভশীল হওয়ায় ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না চাষিরা। এতে লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে হতাশায় পড়েছেন শত শত কৃষক। কৃষকের উৎপাদিত বেগুন বিক্রি করে মুনাফা লুটছেন মধ্যস্বত্ব ভোগিরা। বেগুনের বাম্পার ফলন হওয়া সত্বেও বাজার ব্যবস্থার কারনে চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষক।

উপজেলার ডাকাতিয়া ইউনয়নের পাঁচগাঁও ঢাকিরভিটা গ্রামে গিয়ে দেখা যায় কৃষক সফিকুল ইসলাম ও ইছমাইল শেখ ক্ষেত হতে গোলাকৃতির সাদা বেগুন উঠিয়েছেন বিক্রির জন্য। এ জাতের বেগুন সবজি হিসেবে খুবই সুস্বাদু হয়ে থাকে। বাজারে চাহিদাও প্রচুর। ভোজন বিলাসীদের জন্য সবজি হিসাবে বেগুনের কদর সব পরিবারে সব সময়। ভাজা, সিদ্ধভর্তা, পোড়াভর্তা, মাছের সাথে ঝোল তরকারি, শুটকি দিয়ে বেগুন তরকারি, রোজার সময় ইফতারির জন্য বেগুনি সবই মুখ রোচক খাবার। যে কারনে অনেক গুনের বেগুন নামের এ সবজিটির চাহিদা ঘরে ঘরে।

কৃষক সফিকুল ইসলাম জানান, তিনি মঙ্গলবার সকালে ১০ মন বেগুন নিয়ে ভালুকা বাজারে মাত্র সারে ৭ টাকা কেজি ৩০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করে এসেছেন পাইকারদের কাছে। অথচ ওই বাজারেই সাধারণ ক্রেতাদের কাছে সারে ৭ টাকার বেগুন বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা কেজি অর্থাৎ ৮০০ টাকা মণ দরে। পাইকাররা হাত বদল করেই প্রতি মণে মুনাফা লুটছে ৫০০ টাকা।

পয়সা খরচ করে রোদ বৃষ্টিতে হাড়ভাঙ্গা খাটুনির পর উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে যখন লাভের অংশ অন্যে ভোগ করে তখন কিছুই করার থাকেনা। কৃষক ইছমাইল সেখ জানান তিনি অন্যের জমি বর্গা নিয়ে বেগুন চাষ করেছেন, বেগুনের ফলন ভাল হয়েছে কিন্তু তারা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেননা। সার কীটনাশকের দাম বেশী হওয়ায় তারা ফসল উৎপাদন করে লোকসান গুনছেন।

সফিকুল ইসলাম জানান, গত বছর ২ হাজার থেকে ২৪শ টাকা পর্যন্ত মণ বেগুন বিক্রি করে প্রচুর মুনাফা পেয়েছিলেন। এ বছর বাজারে দাম থাকলেও তারা দাম পাচ্ছেননা। তিনি এ বছর এক একর জমিতে বেগুন চাষ করেছেন। সাধারণত বৈশাখ জৈষ্ঠ মাসে ক্ষেত তৈরীর পর চারা রোপন করতে হয়। চারা রোপনের তিন মাসের মধ্যে গাছে ফলন আসে। প্রতি ১৫ দিন অন্তর ক্ষেতে সার ও কীটনাশক না দিলে পোকার আক্রমন ও ফলন বিপর্যয় ঘটে। গাছ যত বড় হয় খরচ তত বাড়তে থাকে। এক একর জমিতে ১৫ দিন অন্তর ৫ হাজার টাকার সার ও কীটনাশক দিতে হয়। বেগুনের দাম কম হওয়ায় লোকসানের মধ্যে সার ও কীটনাশক দিতে হচ্ছে।

তিনি জানান, প্রায় ৪/৫ মাসে এক লাখ টাকার বেগুন বিক্রি করছেন। এর মধ্যে ৮০ হাজার টাকার উপরে খরচ হয়ে গেছে। একবার চাষ করা ক্ষেতে এক বছর ফলন পাওয়া যায়। এখন ক্ষেতে ফলনের ভরা মৌসুম। একটি গাছে ফুল, কুঁড়ি ও ছোট বড় বিক্রয় উপযোগী বেগুন সব সময় থাকে। সফিকুল জানান প্রতি বছর আঁখ, ধান ও বিভিন্ন সবজি চাষ করে সংসারে সচ্ছলতা এনেছেন। স্ত্রী শরীফা আক্তার গৃহস্থালী কাজে সব সময় সাহায্য করে থাকেন। বড় মেয়ে সানজিদা আক্তার স্মৃতি (১৩) সপ্তম শ্রেণীতে ও ছোট মেয়ে ঈষিতা (৬) প্রথম শ্রেণীতে লেখাপড়া কওে গ্রামের স্কুলে। কৃষি কাজ করে স্ত্রী সন্তান নিয়ে মোটামোটি সুখে শান্তিতে দিন কাটাচ্ছেন।

ওই গ্রামে প্রায় শতাধিক বেগুন চাষী রয়েছেন। অভিযোগ কষ্টের উৎপাদিত ফসল ক্ষেত থেকে তুলে ভ্যান রিক্সা ভাড়া দিয়ে বাজারে নিয়ে অর্ধেকেরও কম মূল্যে বিক্রি করতে হয়। তারা ফরিয়া পাইকারদের বেড়াজাল হতে মুক্ত হয়ে উপযুক্ত বাজার মূল্যে ফসল বিক্রির পরিবেশ তৈরীর মাধ্যমে লোকসানের হাত থেকে কৃষকদের বাঁচাতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি দাবী জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষন কর্মকর্তা এনামুল হক জানান, উপজেলার মল্লিকবাড়ী, ভরাডোবা, মেদুয়ারী, উথুরা, ডাকাতিয়া, কাচিনা, হবিরবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে প্রায় ২৫০ হেক্টর জমিতে হাইব্রীড, ইসলামপুরী, খরখটিয়া, বারি সহ বিভিন্ন জাতের বেগুনের আবাদ হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানী হয়ে থাকে। তবে উপযুক্ত মূল্য না পাওয়ায় বেগুন চাষে কৃষক আগ্রহ হারাচ্ছেন।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত