শিরোনাম

নাটোরে বেড়েছে পাটের চাষ

প্রিন্ট সংস্করণ॥নাটোর প্রতিনিধি  |  ০১:০৩, আগস্ট ০৪, ২০১৮

নাটোরে পাটের চাষ বেড়ে সোনালী আঁশের দিন ফিরে আসতে শুরু করেছে। বিগত বছরগুলোতে স্বাভাবিক বৃষ্টির কারণে পাট প্রক্রিয়াজাত করণের সুবিধা এবং পাটের বাজার দরের উর্ধ্বমুখীর কারণে কৃষকরা পাট চাষে ক্রমশ: আগ্রহী হয়ে উঠছেন। নাটোরে পাটের আবাদী জমি এবং উৎপাদনের পরিমাণ বেড়েছে। বিভিন্ন জলাশয় ও খালে পাট গাছ ভেজানো এবং পাটের আঁশ ছাড়িয়ে পাট শুকানো এবং পাটকাঠি সংগ্রহ করা হচ্ছে। নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানিয়েছে, চলতি বছর জেলায় সর্বমোট ১৭ হাজার দুইশ’ ৪০ হেক্টর জমিতে পাটচাষ হয়েছে। এরমধ্যে সর্বাধিক পাঁচ হাজার ৫৪০ হেক্টও জমিতে পাট আবাদ হয়েছে বড়াইগ্রাম উপজেলায়। লালপুরে হয়েছে তিন হাজার ছয়শ’ হেক্টর জমিতে, গুরুদাসপুরে দুই হাজার ছয়শ’ ৫০ হেক্টর জমিতে, নাটোর সদর উপজেলায় এক হাজার সাতশ’ হেক্টর, সিংড়ায় এক হাজার ছয়শ’ হেক্টর, বাগাতিপাড়ায় এক হাজার একশ’ ৮৫ হেক্টর এবং নলডাঙ্গা উপজেলায় নয়শ’ ৭৫ হেক্টর জমিতে। এরমধ্যে ৪০ হেক্টর ছাড়া সবই তোষা জাতের পাট। বিগত তিন বছর আগে জেলায় পাটের আবাদি জমি ছিল ১৫ হাজার ৮৭০ হেক্টর। চলতি বছরে হেক্টর প্রতি উৎপাদন সাড়ে ১০ বেল ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিগত বছরগুলোতে আবাদী জমির পাশাপাশি হেক্টর প্রতি পাটের গড় উৎপাদনও বেড়েছে। সিংড়া উপজেলার লাড়ুয়া গ্রামের কয়েক কিলোমিটার রাস্তার দু’পাশে এবং সংলগ্ন বিল ও ডোবাতে শতাধিক নারী-পুরুষ পাট পঁচানো ও আঁশ ছড়ানোর কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। এই কাজে মহিলাদের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মত। তারা মূলত পানিতে না নেমেই পঁচানো পাট পাড়ে তুলে এনে আঁশ ছড়াচ্ছেন। আঁশ ছড়ানো কাজে নিয়োজিত আয়েশা খাতুন জানান, এই কাজে তাদের চেয়ে পুরুষদের মজুরি বেশি। পুরুষদের তিশ’৫০ টাকা আর তাদের দেয়া হয় মাত্র দুইশ’ টাকা। কুলসুম বিবি বলেন, তিনি পাটকাঠি নেওয়ার শর্তে আঁশ ছাড়ানোর কাজ করছেন। রাস্তার দু’ধারে বাঁশের আড় টানিয়ে, কালভার্টের রেলিং কিংবা গৃহস্ত বাড়ির চারপাশ-সর্বত্রই এখন চলছে পাট শুকানোর কাজ। লাড়–য়া এলাকার কৃষক আনছার আলী বরাবরের মত এবারো তার চার বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। বিলে পাট ছড়ানো শ্রমিকদের কাজ তদারককারীর সময় তিনি বলেন, শ্রাবণে বৃষ্টি বেশি হওয়ায় পাট পঁচানোর সুবিধা হয়েছে। তিনি আশা করছেন বিঘা প্রতি সাড়ে দশ মণ করে ফলন পাবেন। নাটোর সদর উপজেলার রাজাপুর ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. বদিউজ্জামান জানান, এবার এলাকায় আশানুরূপ পাটচাষ হয়েছে। গড় উৎপাদন বিঘা প্রতি নয় মণ। এই ব্লকের জাঠিয়ান এলাকার কৃষক শামসুল আলম এবার সাত বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন।'
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত