শিরোনাম

কালীগঞ্জে বৃদ্ধি পাচ্ছে ড্রাগন ফলের চাষ

প্রিন্ট সংস্করণ॥কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি  |  ০১:১৭, জুন ০৯, ২০১৮

পরিচিত ফসল চাষের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসে নতুন নতুন ফসল চাষে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের আশরাফ হোসেন স্বপন সফলতা পেয়েছেন, পরিচিতি পেয়েছেন সৃজনশীল চাষী হিসেবে। উৎপাদন যথাযথ হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় থাকা সত্ত্বেও ঝুঁকি নিয়ে নতুন নতুন ফসল চাষ করে চলেছেন তিনি। এবার বিদেশি ড্রাগন ফল চাষ করে এলাকায় রীতিমত হৈচৈ ফেলে দিয়েছেন। লাভজনক হওয়ায় ড্রাগন চাষ সম্প্রসারণও করেছেন। এখন ছড়িয়ে দিতে চান জেলাব্যাপী। চাষী স্বপন ক্রমাগত নতুন নতুন চাষে নিজের ভাগ্যের পরিবর্তনের পাশাপাশি তিনি অন্যের জন্য পথিকৃত হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। কৃষি উদ্যোক্তা স্বপন জানান, প্রথম দিকে ধান, পাট ও আখের মতো পরিচিত ফসল চাষ শুরু করলেও কয়েক বছর পরেই চাষে বৈচিত্র্য আনেন। ধান-পাট বাদ দিয়ে শুরু করেন ফুল চাষ। ২০০১ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত দেশি বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির ফুল চাষ করে ভালো মুনাফাও পেয়েছিলেন। তার দেখাদেখি অনেকে ফুল চাষ করে লাভবান হয়েছেন। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে ফুল চাষীদের বেশ মন্দা সময় যায়। এ সময় ফুল ও গাছে পঁচন ধরে। বাজার দরও কম পাওয়া যায়। এজন্য নতুন ফসল চাষে মনোযোগ দেন তিনি। এক সময় টেলিভিশন ও পত্র পত্রিকায় স্ট্রবেরি চাষ নিয়ে প্রতিবেদন দেখে এ ফল চাষে আগ্রহ জন্মে তার। ২০১৪ সালে ১৮ শতক জমিতে স্ট্রবেরি চাষ শুরু করেন। প্রথম বছরে খুব বেশি লাভ না পেলেও পরের বছর নিজের উৎপাদিত চারা দিয়ে ৬৮ শতক জমিতে স্ট্রবেরি চাষ করে আর্থিকভাবে বেশ লাভবান হন। স্বপন জানান, বালিয়াডাঙ্গা বাজারে তার একটি কিটনাশক ও বীজ এর ব্যবসা প্রতিষ্ঠা আছে। সেই সূত্রে একটি কোম্পানিতে চাকরি করা কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল নোমানের সাথে পরিচয় হয়। তারই অনুপ্রেরণায় ২০১৪ সালে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চারা এনে ২৫ শতক জমিতে ড্রাগন চাষ শুরু করেন। প্রতিটি চারা ১’শ ২০টাকা দরে ক্রয় করেন। ড্রাগন চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করে কংক্রিটের পিলার স্থাপন করতে হয়। একটি কংক্রিটের পিলারের চার পাশে ৪টি চারা লাগনো হয়। এক একরে ৫’শটি চারা লাগানো যায়। পিলারের উপরে একটি টায়ার বেঁধে দেয়া হয়। এই টায়ারের উপর ড্রাগনের শাখা প্রশাখা ছড়িয়ে থাকে। স্বপন জানান, অক্টোবর মাসে ড্রাগন চারা লাগানো হয়। প্রায় ১৮ মাস পরে গাছে ফল আসে। ১ বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষে ফল আসা পর্যন্ত প্রায় ২ লক্ষ টাকা খরচ হয়। কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জাহিদুল করিম জানান, বাংলাদেশে এ ফলের চাষ এখনও সেভাবে শুরু হয়নি। কালীগঞ্জ উপজেলায় বোরহান ও স্বপন নামের ২ জন চাষী ক্যাটকাস প্রজাতির এ ফলের চাষ শুরু করেছেন। অধিক পুষ্টি গুন সম্পন্ন এ ফল চোখকে সুস্থ রাখে, শরীরের চর্বি কমায়, রক্তের কোলেস্টেরল কমায়, উচ্চ রক্তচাপ কমানোসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে। ঢাকাতে এ ফলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। স্থানীয় বাজারেও এ ফল বিক্রি শুরু হয়েছে। উপজেলার চাষিদের উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে আগামী ৩ বছরে কমপক্ষে ১০ হেক্টর জমিতে লাভজনক ড্রাগন ফলের চাষ সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা আছে বলে তিনি জানান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত