শিরোনাম

লালপুরে শুরু হয়েছে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে আমের চাষ

মোঃ আশিকুর রহমান টুটুল, লালপুর (নাটোর)  |  ১৬:১৮, জুন ০২, ২০১৮

বিদেশে রপ্তানির উদ্দেশ্যে এই প্রথম বিষমুক্ত ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে (বিশেষ ধরণের কাগজের ব্যাগ দিয়ে মোড়ানো আম) বানিজ্যিক ভাবে আমের চাষ শুরু করেছে নাটোরের লালপুর উপজেলার বিজয়পুর গ্রামের আম চাষী কামরুজ্জামান লাভলু। কোন প্রকার কীটনাশক প্রয়োগ ছাড়া পোকামাকড়ের আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা এবং উৎপাদিত আমের গুনগতমান রক্ষা করতে প্রাথমিক ভাবে ১০ বিঘা জমিতে (আমরূপালি, খিরসাপাতি, লক্ষণা, গোপালভোগ, লেংড়া, ফজলি, আশ্বিনী ও কৃষাণ ভোগ) জাতের প্রায় ৩২ হাজার আম ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতির আওতায় আনা হয়েছে। ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি সফল হলে আগামীতে এর চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছেন এই এলাকার আম চাষীরা।

জানাগেছে, চীন থেকে আমদানিকৃত ব্যাগটি উপজেলায় প্রথম বারে মতো আমে পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু হয়েছে। ব্যাগিং পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে মানসম্পন্ন আম উৎপাদন সম্ভব। আম গুলি ব্যাগের ভিতরে থাকায় বিভিন্ন পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে আম রক্ষা পাবে এক্ষেত্রে অতিরিক্ত কীটনাশক প্রয়োগ প্রয়োজন হবে না ফলে আম নষ্টও কম হবে এবং উৎপাদিত আমের ফলনও বৃদ্ধি পাবে। তেমনি মানসম্পন্ন আম বিদেশে সহজে রপ্তানি হবে ও আম চাষীরা স্বল্প খরচে আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় ব্যাগিং পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করছেন এখানকার আম চাষীরা। এছাড়াও একশত ভাগ নিরাপদ এই আমগুলো সংগ্রহের পরে ১৫-২০ দিন সংরক্ষিত করে খাওয়া যাবে।

শনিবার সরেজমিনে বাগানে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি আমের গাছে ঝুলছে কাগজের ব্যাগ, দুর থেকে দেখে মনে হবে যেন গাছে গাছে ঝুলে আছে বাবুই পাখির বাসা। কাছে গিয়ে দেখা যায় আসলে গাছের আম গুলি একটি বিশেষ ব্যাগের ভিতওে রয়েছে। জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে বাগানটির মালিক আমার সংবাদকে বলেন, ‘উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শেক্রমে প্রথম পর্যায়ে দশ বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের প্রায় ৩২ হাজার আম ফ্রুট ব্যাগিং করা হয়েছে। প্রতিটি ব্যাগ প্রায় সাড়ে ৩ টাকা খরচ পড়েছে। ব্যাগগুলি দুইবার ব্যবহার করা যাবে। এই পদ্ধতি ব্যবহার করায় আমের বাগানে বর্তমানে আমাকে কোনো বাড়তি কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়নি। এ বছর ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে কীটনাশকমুক্ত আম উৎপাদনে চাহিদা ও দাম ভালো পেলে আগামী বছর ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে আমের চাষ আরও বৃদ্ধি পাবে।

এছাড়াও এই অঞ্চলের অনেক আম চাষী আগামীতে ব্যাগিং পদ্ধতি আমের চাষ শুরু করবেন বলেও জানান তিনি।’ তিনি আরো বলেন, এই প্রযুক্তির আম রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, জার্মানিসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করার প্রক্রিয়া চলছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার হাবিবুল ইসলাম খান আমার সংবাদকে বলেন, পরীক্ষামূলক ভাবে উপজেলায় এই প্রথম ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে আমের চাষ করা হয়েছে। এই পদ্ধতিতে আম চাষের প্রসার ঘটাতে উপজেলা কৃষি বিভাগ হতে কৃষকদের সব রকম পরামর্শ ও সহায়তার উদ্যেগ নেয়া হয়েছে। এবার ব্যাগিং পদ্ধতিতে উৎপাদিত আম বিভিন্ন স্থনে পাঠানো হবে বলে তিনি আশ প্রকাশ করেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত