শিরোনাম

বরগুনায় তরমুজ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষকরা

প্রিন্ট সংস্করণ॥বেলাল হোসেন মিলন, বরগুনা  |  ১২:১১, এপ্রিল ১০, ২০১৮

দেশের বিভিন্নস্থানে উৎপাদিত তরমুজের চেয়ে বরগুনায় উৎপাদিত তরমুজ অপেক্ষাকৃত সুস্বাদু হওয়ায় দেশজুড়ে এই তরমুজের চাহিদা ছিল ব্যাপক। চাহিদার ব্যাপকতার কারণে গত কয়েক বছর ধরে বিপুল পরিমান জমিতে তরমুজ আবাদ করে দেশের চাহিদা পূরণের পাশাাপাশি লাভবানও হয়েছে এই জেলার কৃষক। কিন্তু গত বছরের অকাল বৃষ্টি এবং তরমুজের ট্রাকে চাঁদাবাজির কারণে তরমুজ চাষে আগ্রহ হারিয়েছে বরগুনার কৃষক। অকাল বৃষ্টিতে তরমুজ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় লাভের পরিবর্তে লোকসান গুনতে হয়েছে চাষিদের। অন্যদিকে তরমুজের ট্রাকে চাঁদাবাজির ফলে পাইকারদের এই জেলার তরমুজ না কেনার কারণে অনেক চাষির উৎপাদিত তরমুজ নষ্ট হয়েছে ক্ষেতেই। তাই একদিকে তরমুজ চাষে লোকসান ও অন্য দিকে বোরো ধানের দাম বৃদ্ধির ফলে ঝুঁকিপূর্ণ এই ফসল আবাদে আগ্রহ হারিয়েছে এই জেলার কৃষক। এর ফলে তরমুজ চাষে কৃষি অধিদপ্তরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলেও অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর অনেক কম তরমুজ আবাদ হয়েছে বরগুনায়। বরগুনা জেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবছর জেলায় মোট তরমুজ আবাদ করা হয়ছে দুই হাজার পাঁচ শ’ ১৯ টেক্টর জমিতে। এর মধ্যে বরগুনা সদর উপজেলা আবাদ করা হয়েছে এক হাজার ১০ হেক্টর জমিতে, আমতলীতে আবাদ করা হয়েছে ১৫ শ’ হেক্টর জমিতে, তালতলীতে আবাদ করা হয়েছে দুই হেক্টর জমি, পাথরঘাটা উপজেলায় তরমুজ আবাদ করা হয়েছে সাত হেক্টর জমিতে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিবছর বরগুনায় সব থেকে বেশি তরমুজ আবাদ করা হয় আমতলী উপজেলায়। গতবছর শুধু এই উপজেলায় তরমুজ আবাদ করা হয়েছিল পাঁচ হাজার হেক্টর জমিতে। কিন্তু এবছর এতো কম তরমুজ আবাদ করার কারণ সম্পর্কে এ উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের কৃষক আবদুজ জব্বার বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে তরমুজ চাষ করে আমরা বেশ লাভবান হয়েছি। তরমুজ চাষে বেশ লাভবান হওয়ার কারণে প্রতিবছর এই উপজেলার তরমুজ চাষিদের সংখ্যা বেড়েই চলত। কিন্তু উপকূলীয় এই এলাকায় গতবছর হঠাৎ করে অকাল বৃষ্টির কারণে প্রায় সকল চাষিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনেক কৃষক তরমুজ চাষের খরচের টাকা পর্যন্ত তুলতে পারেননি গতবছর। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এই ফসল চাষ না করে অন্যান্য রবি ফসল উৎপাদনে মনোনিবেশ করেছেন তার। এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম বদরুল আলম বলেন, ‘বেশ কয়েকটি কারণে এবার আমতলীতে তরমুজ আবাদ কমেছে। এর মধ্যে বোরো ধানের দাম বৃদ্ধি, তরমুজের বীজের দাম বৃদ্ধি এবং বৈরি আবহাওয়া অন্যতম’। তিনি বলেন, ‘তরমুজ আবাদের সময় এবছর বরগুনায় অকাল বৃষ্টি হয়েছে। তাই ঝুঁকি থাকায় কৃষকরা তরমুজ কম আবাদ করেছে। এছাড়ও আমতলীতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক শ’ ২০ হেক্টর জমি। কিন্তু হঠাৎ করে বোরো ধানের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষক বেশি লাভের আশায় প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছে। তাই তরমুজ আবাদের পরিমান প্রতিবছরের তুলনায় এবছর অনক কম বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর উপপরিচালক শাইনুর আজম খান বলেন, ‘উপকূলীয় এই জেলায় তরমুজ চাষ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অকাল বৃষ্টির কারণে তরমুজ চাষ করে গতবছর চাষিরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এর ফলে এবছর বরগুনায় তরমুজ চাষ অনেক কমেছে। তরমুজ আবাদ কম হলেও বেড়েছে অন্যান্য রবিশস্য আবাদ। বিশেষ করে বোরো এবং মুগ ডালের আবাদ হয়েছে অনেক বেশি।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত