শিরোনাম

পাবনায় পেয়াজের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

মজিবুল হক লাজুক, পাবনা  |  ১৭:৩৭, মার্চ ১৩, ২০১৮

পাবনার সুজানগর-সাঁথিয়ায় এ বছর পেঁয়াজের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের প্রায় ৭০ ভাগ পেঁয়াজের চাহিদা পূরণে সক্ষম পাবনা জেলার উৎপাদিত পেয়াজ। জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে সাঁথিয়া ও সুজানগর উপজেলায়। সুষ্ঠ তদারকি ও আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এবছর পেঁয়াজের উৎপাদন লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছে এলাকার কৃষকেরা ও সংশ্লিষ্ট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর । গত বছর শিলাবৃষ্টিতে পেয়াজ নষ্ট হয়ে যাওয়ার ফলে ঘরে তুলতে পারেনি কৃষক।

পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায় , জেলার ৯ টি উপজেলায় এ বছর প্রায় ৪৯ হাজার হেক্টর জমিতে পেয়াজের আবাদের লক্ষ্যে মাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে সাঁথিয়া উপজেলার ১৭ হাজার হেক্টর , সুজানগর ২০ হাজার হেক্টর। এ অঞ্চলের সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজের উৎপাদন হয় সাঁথিয়া ও সুজানগর উপজেলায়।

খোজ নিয়ে জানা যায়, জেলার সাঁথিয়া ও সুজানগর উপজেলায় পেয়াজের আবাদ হয়েছে প্রায় ৩৭ হাজার হেক্টর জমিতে। গতবারের চেয়েও এবারে বাম্পার ফলন হওয়ার কথা থাকলেও দাম নিয়ে চিন্তায় পেঁয়াজ চাষিরা। এ ব্যপারে সুজানগর বিশিষ্ট পেয়াজ চাষি পৌরমেয়র আব্দুল ওহাব জানান যদি আবহাওয়া ভাল থাকে শিলাবৃষ্টি না হয় তাতে আমাদের পেয়াজের বাম্পার ফলন হবে বলে মনে করছি। যদি শিলাবৃষ্টি হয় এতে গ্রামের কৃষকরা পেয়াজ বিক্রি করে উৎপাদন খরচ ওঠা নিয়েও শংকায় রয়েছে।

গতবছর পেয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছিল। ঘরে উঠানোর আগেই শিলা বৃষ্টিতে সব পেয়াজ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল এলাকার কৃষকের। চরম লোকসানের মুখে পরেছিল কৃষক। এবার সে খরচ পুষিয়ে নিতে পেঁয়াজের নায্য দাম আশা করছে এলাকার কৃষকরা।

সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকার পেঁয়াজের মাঠ ঘুরে ও কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় , পাবনা সাঁথিয়া , বেড়া , সুজানগর অঞ্চলে পেঁয়াজের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা। অন্যদিকে মূলকাটা পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। এবার বিঘা প্রতি ৩০ থেকে ৩৫ মণ মূলকাটা পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। হাট-বাজারে বিক্রি হচ্ছে মান ভেদে প্রতি মণপেঁয়াজ ১ হাজার টাকা থেকে ১ হাজার ৩শ টাকায়। সাঁথিয়ায় প্রত্যান্ত বিল এলাকায় দেখা যায় মাঠকে মাঠ শুধু পেঁয়াজ আর পেঁয়াজ। যতদুর চোখ যায় শুধু পেঁয়াজ আর পেঁয়াজের ক্ষেত। কয়েকদিন আগে হঠাৎ বৃষ্টি হওয়ায় একে পেয়াজের মধু হিসেবে গণ্য করেছে কৃষকেরা। এখন দানা মোটা হওয়ার সময় বলে বৃষ্টি খুবই উপকারে আসবে পেঁয়াজের।

সাঁথিয়া উপজেলার ঘুঘুদহ গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস মেম্বর জানান, পেঁয়াজের বীজ , কীটনাশক , জমি চাষসহ কৃষি শ্রমিকের মজুরী পরিশোধ করতে মৌসুমের শুরুতেই চাষিদের শ্রমে ঘামে ফলানো পেঁয়াজ লোকসান দিয়ে বিক্রি করতে হয়। অন্যদিকে মোটা দানার পেঁয়াজের আবাদে খরচ যেমন বেশী তেমনী ফলনও বেশী। সঠিক দাম না পেলে এখানেও লোকসান গুনতে হবে কৃষকদের। একই উপজেলা ক্ষিদির গ্রামের ওয়াজেদ মন্ডল ও সুজানগরের বামনদি গ্রামের রজব আলী জানায় প্রতি বিঘা জমিতে বীজ ক্রয় , জমি চাষ , চারা তৈরি, সার, কীটনাশক, চারা রোপন, পানি সেচ থেকে পেঁয়াজ তোলা পযর্ন্ত শ্রমিক মজুরি বাবদ খরচসহ প্রতি বিঘা জমিতে পেঁয়াজ উৎপাদনের খরচ পড়ছে প্রায় ২৮ হাজার টাকা।

পৌরসভাধীন ভবানীপুর গ্রামের আঃ রাজ্জাক ও গোপিনাথপুর গ্রামের আঃ কাদের মোল্লা জানান, এক বিঘা পেঁয়াজ আবাদে খরচ হয় প্রায় ৩০ হাজার টাকা। আমার ৫ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করতে গিয়ে এ বছর যে খরচ হয়েছে তাতে নায্য মূল্যে না পেলে অনেক লোকসানে পড়ে যাবে।

সাঁথিয়া উপজেলার দিক্ষির গ্রাম ও বড় নারিন্দা গ্রামের পিয়াজ চাষি সারোয়ার জানায়, কৃষি অফিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা যদি ভালভাবে মাঠে সরেজমিন তদারকি করতো এবং চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে আসতো তাহলে সঠিক পরিচর্যা করে ভাল উৎপাদন করা যেত। তাদের অভিযোগ প্রায় দেড় মাস হলো কৃষি বিভাগের কোন কর্মকর্তা এলাকার আসেন না। অনেক সময় পেয়াজ বিভিন্ন ধরনের রোগ দেখা দিলে সঠিক পরিচর্যা করতে হিমসিম খেতে হয়।

সাঁথিয়া উপজেলার কৃষিকর্মকর্তা কৃষিবিদ রঞ্জন কুমার প্রামানিক জানান , একজন সুপারভাইজার কে কয়েকটি গ্রামের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আমরা জনবল সংকটে আছি। যেখানে থাকার কথা ৪৭জন সেখানে কর্মরত আছে ৩৩জন। এ নিয়েই যথাসাধ্য চেষ্টা করে কৃষকদের সেবায় নিয়োজিত আছি। সুজানগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মঈনুল হক সরকার জানান, এ বছর আমাদের কোনরুপ তদারকির কমতি নেই। পৌরমেয়র আব্দুল ওহাব আমাদেরকে সার্বিক সহযোগীতা করে থাকেন। তবে জনবল যা থাকার কথা তা নেই আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি কৃষকদের যথাসময়ে পরামর্শদানে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত