শিরোনাম

টাঙ্গাইলে বোরো বীজ সংকট লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শঙ্কা

প্রিন্ট সংস্করণ॥ টাঙ্গাইল প্রতিনিধি  |  ০৩:১৪, ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০১৮

টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলায় চলতি মৌসুমে সব ধরণের বোরো বীজের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ফলে জেলায় হাইব্রিড, ঊফশী ও স্থানীয় জাতের বোরো আবাদে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ সূত্রে জানাগেছে, চলতি মৌসুমে হাইব্রিড জাতের দুই হাজার ২১৩ হেক্টর জমিতে ১০ হাজার ৫৩৫ মে.টনের বিপরীতে ১১০.৬৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঊফশী জাতের বোরো চাষে এক লাখ ৬৩ হাজার ৮৯৩ হেক্টর জমিতে ৬ লাখ ৪৪ হাজার ১১২ মেট্রিক টন বোরো আবাদে ৮ হাজার ১৯৪ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। স্থানীয় জাতের ৭৯১ হেক্টর জমিতে এক হাজার ৫৩৮ মে.টন বোরো আবাদের বিপরীতে ৪৯.৮৪ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের পরিসংখ্যানে এবার জেলায় মোট ১৬ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮ হেক্টর জমিতে ৬৫ লাখ ৬১ হাজার ৮৫ মেট্রিকটন বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এজন্য ৮ হাজার ৩৫৪.৪৯ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়।
এদিকে, কোল্ড ইনজুরির কারণে কৃষি বিভাগের বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়নি। অধিকাংশ জমিতে বীজতলা তৈরি করা হলেও অতিরিক্ত ঠান্ডায় বীজের অঙ্কুরোদ্গম হয়নি। যেগুলো হয়েছে সেগুলোও শীতের কারণে জমিতে রোপণ করার পর গোড়ায় পঁচন ধরে শুকিয়ে মরে গেছে। মির্জাপুর উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের ছিটমামুদপুর, লতিফপুর ও তরফপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া, তরফপুর ও পাথরঘাটা এলাকায় বোরো ধানের চারার গোড়ায় পঁচন ধরে মরে যাচ্ছে। এতে কৃষকেরা বেকায়দায় পড়েছেন। বাড়তি খরচ করে পুনরায় চারা(বীজ) কিনে জমিতে পঁচন ধরা চারার জায়গায় প্রতিস্থাপন করে ফসল ঘরে তোলার আশায় বুক বেধেছেন কৃষকরা।
ওই এলাকার কৃষক লেহাজ উদ্দিন, জালেকা বেগম, সৈয়দ রুহুল আমিন সহ অনেকেই জানান, তারা প্রায় ১৫ দিন আগে ধান বুনেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ ধানের চারা মরে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন। বাধ্য হয়ে ক্ষেতে পুনরায় ধানের চারা লাগাচ্ছেন। তারা জানান, ওই এলাকায় প্রতি একর জমির ধান বুনতে হালচাষ, সার, শ্রমিক মজুরি ও ধানের চারা কিনতে প্রায় ২০ হাজার টাকা কৃৃষকরা আগেই ব্যয় করেছিলেন। পুনরায় ধান বুনতে একর প্রতি আরো ১০ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে।
কৃষি বিভাগের উপজেলা ওয়ারি পরিসংখ্যানে জানাগেছে, এবার টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় হাইব্রিড জাতের ৭৫ হেক্টরে ৩৫৭ মে.টন, ঊফশী জাতের ১৩ হাজার ৯১০ হেক্টরে ৫৪ হাজার ৬৬৭ ৃেম.টন ও স্থানীয় জাতের ২০ হেক্টরে ৩৯ মে.টন; মোট ১৪ হাজার ৫ হেক্টর জমিতে ৫৫ হাজার ৬৩ মে.টন বোরো উৎপাদনের বিপরীতে হাইব্রিড-৩.৭৫ হেক্টর, ঊফশী-৬৯৫ হেক্টর ও স্থানীয়-১.২৫ হেক্টর জমিতে মোট ৭০০ হেক্টর বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
বাসাইল উপজেলায় হাইব্রিড জাতের ৫ হেক্টরে ২৪ মে.টন, ঊফশী ১০ হাজার ৮৬৯ হেক্টরে ৪২ হাজার ৭১৫ মে.টন ও স্থানীয় জাতে ২০ হেক্টরে ৩৯ মে.টন; মোট ১০ হাজার ৮৯৪ হেক্টরে ৪২ হাজার ৭৭৮ মে.টন বোরো আবাদের বিপরীতে হাইব্রিড-০.২৫ হেক্টর, ঊফশী-৫৪৩ হেক্টর ও স্থানীয়-১.২৫ হেক্টর জমিতে মোট ৫৪৪.৫ হেক্টর বীজতলা তৈরি করা হয়েছে।
কালিহাতী উপজেলায় বোরো আবাদে হাইব্রিড জাতের ৫৫ হেক্টর জমিতে ২৬২ মে.টন, ঊফশী জাতের ১৭ হাজার ৩৯৪ হেক্টর জমিতে ৬৮ হাজার ৩৫৮ মে.টন ও স্থানীয় জাতের ১১০ হেক্টর জমিতে ২১৪ মে.টন; মোট ১৭ হাজার ৫৫৯ হেক্টর জমিতে ৬৮ হাজার ৮৩৪ মে.টন উৎপাদনের বিপরীতে হাইব্রিড-২.৭৫ হেক্টর, ঊফশী-৮৭০ হেক্টর ও স্থানীয়-৭ হেক্টরে মোট ৮৭৯.৭৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত