শিরোনাম

দাকোপে আমন ধানের দাম কমে যাওয়ায় হতাশ কৃষক

খুলনা প্রতিনিধি  |  ১৭:০৭, জানুয়ারি ১১, ২০১৮

অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর আমন ধানের বাম্পার ফলন হলেও বাজারে আমন ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় হতাশায় ভূগছে দাকোপের কৃষকেরা। আগামীতে এ চাষাবাদের আগ্রহ অনেকাংশে কমবে বলেও অভিমত ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় অনেক কৃষকেরা।

সরেজমিনে দাকোপের বিভিন্ন ইউনিয়নের ধান চাষিদের সাথে কথা বলে জানাযায় এবার প্রতিবিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ করতে বীজ, সার, কীটনাশক, চাষ ও শ্রম দিয়ে ব্যায় হয়েছে ৮ হাজার থেকে ৮ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে ধান হয়েছে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ মন। ধানের বাজার মূল্য হঠাৎ করে কমে যাওয়ায় তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষক ভবতোষ মন্ডল এবং পানখালী ইউনিয়নের কৃষক রুহুল আমীন জানান তারা এনজিও এবং ব্যাংক ঋণ নিয়ে অন্যের জমি বর্গা করেছিল ধানের মূল্য কম হওয়ায় তারা ঋণের টাকা পরিষোধ করতে পারছে না। ঋণের টাকা আদায় করতে প্রতি সপ্তাহে তাদের বাড়ীতে এনজিওর লোক আসছে।

উপজেলার চালনা, বাজুয়া ও কালিনগর বাজারের বিভিন্ন ধান হাটে গত কয়েক দিনের ব্যবধানে ধানের দাম কমে যাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছে হাজারো কৃষক। বর্তমান বাজার এ ধসের কারণে উপায় না পেয়ে কৃষক তার উৎপাদিত আমন ধান বাধ্য হয়ে বাজারে বিক্রয় করে ধার দেন‍া শোধ হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। অর্জিত আমন ফসল এখন বিক্রি করেও তাদের সমস্যার সমাধান মেলাতে পারছে না। ফলে কৃষক তাদের ধান আর বিক্রি করতে চাচ্ছেন না।

বুধবার হাটে ধান বিক্রি করতে আসা মোঃ নজরুল ফকির, বিধান চন্দ্র রায় সকাল ৯টা থেকে দুপুর পর্যন্ত তাদের ধান নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন একটু বেশী মূল্যে বিক্রয় হয় কি না! কিন্তু দাম কমে যাওয়ার কারণে বাজারে কোন ব্যাপারী বা ক্রেতারা তাদের ধানের মুল্যে বর্তমান চলমান বাজার দর ছাড়া কেউই বেশি বলেনি। অবশেষে তাদেরকে ২৩ ইরি ধান ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা মন এবং সাদা মোটা আমন ধান ৯৫০ থেকে ১ হাজার টাকা মন দরে বিক্রি করতে বাধ্য হতে হয়েছে। অনেক কৃষক ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আর আমনের চাষ করব না! আমন ধানের চাষাবাদ করতে যা খরচ হয়েছে তা ধান বিক্রি করেও সেই খরচের টাকা পাওয়া যাচ্ছে না ‍বরং ধান বিক্রয় করে বাড়তি লোকসান গুনতে হচ্ছে আমাদের।

এ ব্যাপারে পানখালী ইউনিয়নের আবুল কালাম শেখ ও পরিতোষ বালা বলেন দাকোপে ধান ব্যবসায়ি ফড়িয়া ও বিভিন্ন ব্যাপারিরা একত্রিত হয়ে ধানার সঠিক মূল্য দিচ্ছেনা। কিন্তু দেশের অন্যান্য ধানের বাজারে এখান থেকে ৮০ থেকে ১০০ টাকা মুল্য বেশী মন প্রতি। তারা আরও বলেন, এ ছাড়া মাল পরিবহনে অধিক ব্যায় ও ঝুঁকি বাড়ার কারনেও ধানের দাম কমে যাচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত