শিরোনাম

ব্রহ্মপুত্রের চরাঞ্চলে মাসকলাই ডালের বাম্পার ফলন

প্রিন্ট সংস্করণ॥ গফরগাঁও প্রতিনিধি  |  ০২:৩৫, জানুয়ারি ০৬, ২০১৮

পাতে ডাল না হলে, হাত ডুবিয়ে ডালভাত না খেলে অনেকের চলে না। বাঙালি রসনায় ডালের কদর যুগ যুগ ধরে। রুচিবদলে ডালের মধ্যেও রয়েছে বৈচিত্র্য। আর এতে মাসকলাইয়ের ডালের ডিশটা বেশ বড়। স্বাদবর্ধক ফোড়ন দিয়ে রান্না করা এক বাটি মাসকলাইয়ের ডাল খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলে বলতেই হবে, আহ্, খেলাম রে!
এ ডালে প্রচুর ফাইবার আছে বলে হজম ভালো হয়। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে এই ডাল উপকারী।
হৃদ্যন্ত্র ভালো রাখতে মাসকলাই ডাল উপকারী। এর পটাশিয়াম রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। শরীরে কোলস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করতে এ ডাল উপকারী। এতে ম্যাগনেশিয়াম থাকায় রক্তপ্রবাহ বাড়ায় এবং হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে সাহায্য করে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখতে পারে মাসকলাই ডাল। এছাড়াও আরও অসংখ্য গুন রয়েছে এ ডালের। ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের চরাঞ্চলে এ ডাল চাষ বেশি হয়ে থাকে। এ উপজেলায় এবার ৪৫০ হেক্টর জমিতে মাসকলাই (ডাল) চাষ হয়েছে। উপজেলার চরাঞ্চলসহ ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে জেগে উঠা চরে বাম্পার ফলনে চলতি মৌসুমে তিন শতাধিক কৃষকের ভাগ্যবদলে গেছে। চরআলগী ইউনিয়নের বালুয়া কান্দা গ্রামের কৃষক সৈকত মিয়া জানান, ধান চাষের উপর নির্ভরশীল চরাঞ্চলে কৃষকরা ব্রহ্মপুত্রের বুকে জেগে উঠা চরে মাসকলাই চাষ শতাধিক কৃষকের জীবনে এবার এনে দিবে নতুন গতি।
উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ব্রহ্মপুত্র নদের চর ছাড়াও উপজেলার টাঙ্গাব, দত্তের বাজার ও পাঁচবাগ ইউনিয়নে প্রচুর মাসকলাই চাষ হয়েছে।
এ তিনটি ইউনিয়নের অন্তত দুই শতাধিক কৃষক ফলন ভাল হওয়ায় আশাতীত লাভবান হবেন। উপজেলা কৃষি অফিসার এসএস ফারহানা হোসেন বলেন, মাসকলাই (ডাল) চাষের পর কৃষকরা ধান ও গম করতে পারে। পাশাপাশি সামান্য খরচে প্রচুর লাভ হওয়ায় দিন দিন কৃষকরা মাসকলাই চাষের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। উপজেলায় এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৪৫০ হেক্টর জমিতে মাসকলাই ডালের চাষ হয়েছে। রান্না করা মাসকলাই ডাল সুস্বাদু হওয়ায় এ অঞ্চলে এর চাহিদা প্রচুর। উপার্জনের দিক দিয়ে মূল ভূখন্ডের চেয়ে চরের মানুষ কোন ভাবেই পিছিয়ে নেই।
চরআলগী ইউনিয়নের বালুয়া কন্দা গ্রামের কৃষক আ. জলিল জানান, ব্রহ্মপত্র নদে জেগে উঠা চরে এবার সে ৪ এরক জমি অন্যর কাছ থেকে বর্গা নিয়ে মাসকলাই চাষ করেছে। ৪ একর জমিতে মাসকলাই চাষ করতে জলিলের ১৪’শ টাকার বীজ লেগেছে। অবস্থা দেখে তিনি বাম্পার ফলনের আশা করছেন। ভাল ফলনে প্রতি একরে ২৯ মন মাসকলাই উৎপাদন হবে বলে তিনি আশা করছেন। এ চাষী জানান, মাসকলাই চাষে সার ও কীটনাশকের প্রয়োজন পড়েনা।
ফলে উৎপাদন খরচ ব্যতিত মাসকলাই বিক্রির সম্পূর্র্ণ টাকাই লাভ হয়। একই গ্রামের কৃষক আব্দুল হান্নান ব্রহ্মপুত্রের বুকে জেগে উঠা চরে ৩ একর ও সূরুজ মিয়া ৪ একর জমিতে মাসকলাই চাষ করেছেন।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত