শিরোনাম
মুলা ও লাল শাকের বাহারে

তিন শতাধিক কৃষকের অভাব দূর

প্রিন্ট সংস্করণ॥ সাব্বির কামাল, গফরগাঁও (ময়মনসিংহ)  |  ০৯:৫৮, ডিসেম্বর ০৫, ২০১৭

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার মাঠে মাঠে শোভা পাচ্ছে শীতকালীন সবজি মুলা ও লাল শাকের দিগন্ত জোড়া সবুজের সমারোহ। এখানকার কৃষকদের লাল শাকে লাল আর মুলা শাকে সবুজের বাংলাদেশের একটি চিত্র প্তটে উঠেছে। মাঠজুড়ে কৃষকের লাল-সবুজ স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষে মুয়াজ্জিনের আযান কানে আসার সাথে সাথে সকালের কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশে মাঠে ছুটে যাচ্ছে কৃষক। শীতকালে যেদিকে চোখ যায় কৃষকের স্বপ্ন বোনা ফসলের মাঠ দৃষ্টি কারে। প্রাণ জুড়িয়ে যায় তাদের যতেœ গড়ে তোলা লাল-সবুজ বাগান দেখে। উপজেলার একটি পৌরসভা ও পনেরটি ইউনিয়নের সব জায়গায় কমবেশি সবজি চাষ করা হয়েছে।
উপজেলার চরআলগী, টাঙ্গাব, পাঁচবাগ ও দত্তের বাজার ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এক কালের খরস্রোতা ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে দিগন্ত জুড়ে মুলা ও লাল শাক চাষ হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদে বুকে জেগে উঠা চরে যতদুর চোখ যায় শুধু মূলা ও লাল শাক ক্ষেতের সবুজ আর লালের সমারোহ। চরাঞ্চলের ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে এবার আশাতীত মূলা ও লাল শাক চাষ হয়েছে। উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের চরমছলন্দ, বালুয়াকান্দা, জয়ারচর, চরকামারিয়া, নিধিয়ারচর, বগামারারচর ও পাঁচবাগ ইউনিয়নের খুরশিদমহল গাভীশিমুল, নামকাইল, দিঘীরপাড়, শাঁখচূড়া, দুগাছিয়া ও দত্তেরবাজার এবং টাঙ্গাব অঞ্চলে প্রচুর শীতকালীন শাক-সবজি চাষ হয়। গত এক মাসের বেশি সময় ধরে বাজারে উঠতে শুরু করেছে এসব শাক-সবিজ। তবে দাম একটু বেশি। তার পরেও শীত পড়ার আগেই শীতের শাক-সবজি পেয়ে খুশি মনেই ক্রয় করছেন ক্রেতারা। আগাম মূলা ও লাল শাকের গন্ধ ও স্বাদ অনেকটাই আলাদা। এসব শাক-সবজির ব্যাপক চাহিাদা থাকায় কৃষকরাও দিন দিন সবজি আবাদের দিকে ঝুঁকছেন। গত কয়েক বছর যাবত গফরগাঁওয়ের কৃষকরা শীতের আগেই শীতকালিন সবজি বাজারে তুলতে পারছেন। কৃষকরা জানান, একটু আগে ভাগে শীতের শাক-সবজি বাজারের তুলতে পারলে প্রচুর লাভবান হওয়া যায়। পাশাপাশি লোকশানের কোন ভয়ও থাকেনা। চর সালটিয়া গ্রামের কৃষক নাজুল জানান, এবার সে এক একর জমিতে মুলা ও লাল শাকের আবাদ করেছেন। এক একর জমিতে তার প্রায় ১১ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ফলনও হয়েছে বাম্পার। তিনি আশা করছেন বর্তমানে বাজারে যে দাম রয়েছে তা অব্যাহত থাকলে অন্তত ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকার মুলা ও লাল শাক বিক্রি করতে পারবেন। একই গ্রামের কৃষক করিম মিয়া তিনিও ১ একর জমিতে লাল শাক ও মূলা শাকের আবাদ করেছেন। ইতিমধ্যে তিনি ১০-১২ হাজার টাকার শাক বিক্রি করেছেন। আরও ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকার শাক বিক্রি করতে পারবেন বলে জানান। এছাড়াও কৃষক নাজমুল মিয়া, নজরুল ইসলাম, আঃ রশিদসহ আরো অর্ধশতাধিক কৃষক মুলা ও লাল শাকের আবাদ করেছেন।
তাদের মতো উপজেলার চরআলগী, টাঙ্গাব, দত্তের বাজার ও পাঁচবাগ ইউনিয়নের আরো আড়াই শতাধিক কৃষক মুলা ও লাল শাকের আবাদ করেছেন। শাক-সবজি চাষে প্রচুর লাভ হওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতি ও জীবন যাত্রার মান বদলাতে শুরু করেছে। এ ছাড়াও টাঙ্গাব ইউনিয়নের বামনখালী গ্রামের কৃষক নূর ইসলাম, হাদিউল ইসলাম, আল আমিন, ডাকবাংলো গ্রামের কৃষক এখলাছ, সাইপ্তল আসাদ তারা প্রত্যকেই এক একর করে জমিতে মুলা ও লাল শাকের আবাদ করেছেন। নিজেরা পরিশ্রম করার কারনে তাদের প্রতি একরে খরচ হয়েছে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। তারা জানান, কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে কমপক্ষে একরে ৮০ হাজার টাকার শাক বিক্রি করতে পারবেন। এতসব সফলতার পরও কৃষকদের মূল সমস্যা উৎপাদিত এসব রবি শস্যের পরিবহন নিয়ে। রাস্তাঘাটসহ অবকাঠামো উন্নয়ন না হওয়ায় মাঠ থেকে ফসল মূল ভূ-খন্ডে নিয়ে যেতে তাদের যথেষ্ঠ কষ্ট করতে হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস, এস ফারহানা হোসেন জানান, উপজেলায় এবার প্রায় ২০০ হেক্টর জমিতে মূলা ও লাল শাক আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। কম খরচে অধিক লাভ জনক হওয়ায় দিন দিন শাক-সবজি চাষ অধিকাংশ গ্রামে ছড়িয়ে পড়ছে। উপজেলার অসংখ্য কৃষক এসব চাষ করে থাকেন। উপার্জনের দিক দিয়ে এ উপজেলার মানুষ কোন ভাবেই পিছিয়ে নেই।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত