শিরোনাম

অভয়নগরে বীজ ধানের দাম বৃদ্ধি

প্রিন্ট সংস্করণ॥ অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি  |  ০৮:২৯, নভেম্বর ৩০, ২০১৭

যশোরের অভয়নগরে গত ১ সপ্তাহের ব্যবধানে হু হু করে বেড়েই চলেছে বীজ ধানের দাম। আর এ কারণে বীজ কিনতে আসা কৃষকেরা হতাশায় ভুগছে। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন কোম্পানীর কাছ থেকে মোটা অংকের আর্থিক সুবিধা নিয়ে কয়েকটি কোম্পানীর হাইব্রিড বীজ কিনতে উৎসাহিত করছে। খোঁজ নিয়ে গেছে, অভয়নগর উপজেলার শহর ও গ্রামগঞ্জের হাট-বাজারে বীজের দোকানগুলিতে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। গত ১ সপ্তাহ আগে হাইব্রিড হীরা-১, হীরা-২, হীরা-৪, এসএল-এইট, ইস্পাহানি, সাথীসহ ১ কেজি প্যাকেট বিভিন্ন বীজের দাম ২শ’ ২০ টাকা থেকে ২শ’ ৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। কিন্তু গতকাল বুধবার অভয়নগরের বাজারে বিভিন্ন বীজের দোকানে খোজ নিয়ে জানা যায়, এসকল বীজ প্রতি ১ কেজি প্যাকেটের মূল্য বেড়ে দাড়িয়েছে সাড়ে ৩শ’ থেকে ৪শ’ টাকা।
হঠাৎ করে এমন দাম বৃদ্ধির কারণে কৃষক সাধারণ ৪ প্যাকেট বীজ ক্রয়ের জায়গায় ক্রয় করছে ২ থেকে ৩ প্যাকেট। ফলে কৃষকের ধান উৎপাদনে শুরু থেকে একটা বড় ধরনের ধাক্কা খেতে হচ্ছে। যার ফলে আশংকা করা হচ্ছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম জমিতে ধান উৎপাদন হবে। যার প্রভাব পড়তে পারে গোটা দেশের ওপর। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কৃষক ও বীজ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছে, বর্তমান কৃষি অফিসার ও ব্লক সুপার ভাইজাররা কোন রকম ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেনা। কারণ গতবারে ২৮ জাতের ধানে শীষ শুকানো রোগ দেখা দেয়ায় গায়ের ঘাম ফেলতে হয়েছে তাদের।
কাজেই অফিসে বসে বসে যেন সময় কাটানো যায় সেই কারণে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে সরকার কর্তৃক প্রস্তুতকৃত ২৮ জাতের বীজ ধান না কিনতে। এক্ষেত্রে হাইব্রিড বীজ কিনতে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছে কৃষকেরা। অথচ বিএডিসি (বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন বিভাগ) ২৮ জাতের প্রত্যায়িত, মানঘোষিত ও ভিত্তি বীজ প্রস্তুত করে প্রত্যেক উপজেলার ডিলারদের মাঝে নির্দিষ্ট দামে সরবরাহ করেছে।
অপরদিকে কৃষি কর্মকর্তা ও ফিল্ড সুপারভাইজাররা সরকারের এ মহৎ উদ্দেশ্যকে পাশ কাটিয়ে চটকদারি বিজ্ঞাপন সম্বলিত চোখ ধাধানো মোড়কের হাইব্রিড জাতের বীজ কিনতে পরামর্শ দিচ্ছেন।
এব্যাপারে অভয়নগর উপজেলা কৃষি অফিসার গোলাম সামদানির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার অফিস থেকে এমন কোন তথ্য সরবরাহ করা হয়নি যে, ২৮ জাতের বীজ না কিনে হাইব্রিড জাতের বীজ কেনা হোক, অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কোন কোম্পানীর কাছ থেকে আমরা কোন ধরণের আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করিনা, এমনটি হলে অবশ্যই আমাকে জানাবেন, ব্লাষ্ট পোকার আক্রমন রোধে আপনারা কৃষকদের সচেতন করছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, গত দুইদিন আগে উপজেলার বারান্দি গ্রামে আমরা মাঠ দিবস করে তাদেরকে জানিয়েছি যে, বীজ ফেলার আগে কার্বোনডাজিন গ্রুপের ওষুধ প্রতি কেজিতে ২গ্রাম করে মিশিয়ে ১২ ঘন্টা রেখে দেয়ার পর বীজতলায় ফেললে ব্লাষ্ট রোগের আক্রমণ না হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত