শিরোনাম

কৃষক নিজেই পরীক্ষা করতে পারবেন মাটির গুণাগুণ

প্রিন্ট সংস্করণ॥ নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ০২:০৭, নভেম্বর ১২, ২০১৭

মাঠে কৃষি কর্মকর্তার উপস্থিতি ছাড়া কৃষক নিজেই মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা করতে পারবেন। ই ভিলেজ প্রযুক্তির মাধ্যমে মাঠ প্রস্তুতের পাশাপাশি শস্য রোপণে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন তারা। এই টেকনোলজি ফলে সহজেই জমিতে কীটনাশকের মাত্রা, সার ও বীজ প্রয়োগে পরিমাণ নির্ধারণ করা যাবে। ফলে এসব উপকরণ প্রয়োগে গতানুগতিক প্রথা থেকে বেড়িয়ে আসা সম্ভব হবে বলে মনে করেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। সম্প্রতি গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে সেন্টর ফর রিসার্চ ও ইনফরমেশন ইআরআই ও চীন সরকারের সহায়তায় সফল ভাবে সম্পন্ন হয় ই ভিলেজ পাইলট প্রকল্প। রাজধানীর অদূরে চন্ডীপুর গ্রামে সবজি রোপণের পর মাঠ পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষকেরা। তবে কতটুকু জমিতে কী পরিমাণ বীজ, সার ও কীটনাশক দিতে হবে তা নিয়ে প্রায়ই দুশ্চিন্তায় থাকেন তারা। একজন কৃষক জানান, সারের মাত্রাটা একটু বেশি পড়ে যায় যাতে ফসলের ক্ষতি হয়। আবার যদি সারটা একটু কম দেয়া হয় তবে ফসল জোর পায় না। স্থানীয় আরেকজন জানান, উৎপাদন বাড়ানোর জন্য বা একটু আধুনিক পদ্ধতি জানার জন্য যে কৃষি অফিসে যাওয়ার দরকার সেটার চল এখানকার কৃষকদের মধ্যে নেই।
অন্যদিকে গাজীপুরের জয়দেবপুর উপজেলার পাজুলিয়া গ্রামের একজন নারী কৃষক ছোট একটি যন্ত্র দিয়ে মাটি পর্যবেক্ষণ করছেন। চীন সরকার ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠান সিআরআই এর সহায়তায় গ্রামের ১৫ টি পরিবারকে বিনামূল্যে একটি স্মার্ট ফোন ও একটি বিশেষ যন্ত্র দেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে মাটির গুণাগুণ, ফসলের নানা রোগ সম্পর্কে নানা তথ্য পাঠাচ্ছেন কৃষক। এই প্রযুক্তি ব্যবহারকারীরা জানান, এটার মাধ্যমে মাটিতে কতটুকু পানি আছে সেটা জানা যায়। আগে জমিতে পানি দেয়ার পরপরই আবারও পানি দিয়ে ফেলতেন তারা। তবে এটা আসার পর পানির পরিমাণ জেনে পুনরায় সেচ দেয়া হয়।
স্মার্ট অ্যাপসটি বাংলাতে ও কৃষকের ব্যবহার উপযোগী করে বানানো হয়েছে বলে জানান এই প্রযুক্তির উদ্ভাবক এবং ই ভিলেজের প্রকল্প প্রধান অধ্যাপক রশীদুল হাসান। পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় হবে ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা।
তিনি বলেন, ফিল্ড সার্ভার একটার দাম তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা। আমাদের কৃষকরা কোনদিনই এই ডিভাইস কিনতে পারবে না। সেটা কিভাবে করা যায় সেই চিন্তা থেকেই আমার এই লোকাস ডিভাইস। মূলত পাঁচটা সেন্সর নিয়ে কাজ করতে হয়েছে। মাটি এবং পরিবেশের দুইটা করে এবং পাতার একটা। দেশ থেকে প্রতিবছর এক ভাগ করে কৃষিজমি কমে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। এই বাস্তবতায় কৃষিতে প্রযুক্তির বিকল্প নেই বলে মনে করেন তারা। তাই তাদের মতে, অল্প জায়গায় অধিক ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে ই ভিলেজ প্রযুক্তি কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. গিয়াসউদ্দীন মিয়া বলেন, কৃষক সরাসরি মাঠ থেকে তথ্যগুলো পাঠাবে আর গবেষক এবং পরামর্শকরা তার উত্তর দেবেন। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কৃষক সরাসরি উপকৃত হবে। ই-ভিলেজ নামের এর এই ডিভাইসটি মাঠের কৃষক ও বিশেষজ্ঞের মধ্যে দূরত্ব কমাবে বলে দাবি করেছেন গাজীপুর জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর।
তিনি বলেন, জলবায়ু যত পরিবর্তন হবে তত ফসলের রোগ-ব্যধি বৃদ্ধি পাবে, মানুষের রোগ-ব্যাধি বৃদ্ধি পাবে। যদি সঠিকভাবে এই রোগগুলো নিয়ন্ত্রণ করা যায় তবে উৎপাদন বেড়ে যাবে ২০ ভাগ এবং লাভ হবে আরও ২০ ভাগ।
সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন সিআরআই এর সহায়তায় পাইলট প্রজেক্ট সফল হওয়ায় ইভিলেজকে সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়ার স্বপ্ন দেখছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত