শিরোনাম

ঝিনাইদহে উচ্চফলনশীল রোগসহিষ্ণু নতুন জাতের ধান উদ্ভাবন

১২:০৬, মে ২৩, ২০১৭

ঝিনাইদহে উচ্চফলনশীল রোগসহিষ্ণু নতুন এক ধানের জাত উদ্ভাবন করেছেন দুদু মিয়া নামের এক কৃষক। ইতোমধ্যে ওই জাতের ধানটি এলাকায় দুদু লতা নামে পরিচিতি লাভ করেছে। ধানটি এখন রবি মৌসুমে চাষ করছেন কৃষক দুদু মিয়া। সেই সাথে জাতীয়ভাবে স্বীকৃতিরও দাবি জানান।

জানা যায়, ২০১২ সালে সদর উপজেলার কালুহাটি গ্রামের কৃষক এমদাদুল হক দুদু মিয়া সুবললতা ধানের মধ্যে নতুন জাতের ধানের ৩টি গোছা আবিষ্কার করেন। পর পর দুবছর সেই ধান পরিচর্যা করে বীজ তৈরি করে নিজের জমিতে আবাদ শুরু করেন। রোগ-বালাইসহিষ্ণু এই ধানের জাতটি উচ্চতায় খাটো হওয়ার কারণে ঝড় বা বাতাসে হেলে পড়ে না। পোকা-মাকড়ের আক্রমণ হয় কম। গত বছর কৃষক দুদু মিয়া ৩ বিঘা জমিতে ১শ মন ধান উৎপাদন করেন। এ বছরও ধানের উৎপাদন ভালো হয়েছে। ৩ বিঘা জমির ধান কাটতে শুরু করেছেন তিনি। কিছুদিনের মধ্যেই নতুন ধান তিনি ঘরে তুলবেন।

কৃষক দুদু মিয়া জানান, নতুন জাতের এই ধান শীষ প্রতি সাড়ে ৩শ থেকে ৪শ পর্যন্ত পুষ্ট ধান হচ্ছে। যা অন্যান্য ধানের শীষে থাকে ১৮০ থেকে ২শ। ধানের গাছ আকারে ছোট হওয়ার কারণে ঝড়ো বাতাসে হেলে পড়ে না। এছাড়াও রোগ-বালাই এই ধানে নেই বললেই চলে। ধান গাছটির আকার ছোট হওয়ার কারণে পরিচর্যা করতে তার সুবিধা হচ্ছে। প্রতিটি ধানের শীষে ৩শ থেকে ৪শ পুষ্ট ধান হচ্ছে। এর মধ্যে কোনো চিটা হয় না। যে কারণে ফলন ভালো হচ্ছে। ধান থেকে যে চাল পাওয়া যাচ্ছে তা দেখতে অনেকটা বেগুন বিচির মতো। চালের স্বাদও ভালো। দামও ভালো পাওয়া যায়। কৃষক দুদু মিয়ার দাবি ব্রি-বিজ্ঞানীদের সহযোগিতায় প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে দুদুলতা নামে জাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার।

স্থানীয় কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, দুদু মিয়া গত কয়েক বছর নতুন ধানের আবাদ করছেন। অন্যদের জমিতে কোনো কারণে ধানের ফলন কম হলেও গত কয়েক বছর দেখে আসছি তার নতুন জাতের ধানে ফলন ভালো হচ্ছে। ধানটি দেখতেও ভালো আবার চালও খেতে ভালো। ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. খান মো. মনিরুজ্জামান বলেন, সদর উপজেলার কালুহাটি গ্রামে নতুন জাতের ধানের খবর পেয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত সেখানে পাঠিয়েছি। আমি নিজেও কয়েকবার গিয়েছি।

গত ২ বছর যাবৎ কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষক দুদু মিয়াকে প্রশিক্ষণসহ সকল প্রকার প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। ধানটি দেখে আমার মনে হচ্ছে এ জাতের ধান দেশব্যাপী উৎপাদন করলে দেশ আরও একধাপ এগিয়ে যাবে। ইতোমধ্যে ব্রি-বিজ্ঞানীরা মাঠ পরিদর্শন করেছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত