নওগাঁয় আলুতে ছত্রাকের আক্রমণ

নওগাঁ প্রতিনিধি | ১৬:০৬, জানুয়ারি ১২, ২০১৭

চলতি বছর আলুচাষে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলেও আলুগাছে ছত্রাকের আক্রমণে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে নওগাঁয় আলুর আবাদ নিয়ে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তারা লোকসানের আশঙ্কা করছেন। কোনো কীটনাশক দিয়েও এ রোগ নিরাময় করা সম্ভব হচ্ছে না। কৃষি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এ বিষয়ে পরামর্শ না দেয়ার অভিযোগ করেছেন কৃষকরা।

জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ২৪ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২ হাজার ৯৭৫ হেক্টর, মান্দায় চার হাজার ৪০০ হেক্টর, বদলগাছীতে তিন হাজার ৮০০ হেক্টর, ধামইরহাটে তিন হাজার ৪৫০ হেক্টর ও রাণীনগরে ৫৭০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ করা হয়েছে।

এছাড়া, অন্যান্য উপজেলায় কমবেশি আলুর আবাদ হয়ে থাকে। দেশি জাতের আলু ছাড়াও হাইব্রিড জাতের কার্ডিনাল, ডায়মন্ড এবং গ্র্যানোলা জাতের আলুর আবাদ করা হয়েছে। গত বছর ২৩ হাজার ৬০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছিল।

গত ৮-১০ দিন আগে সামান্য বৃষ্টিতে এবং কুয়াশা ও ঠান্ডায় আলুর গাছে ছত্রাকের আক্রমণ হয়েছে। ছত্রাকের আক্রমণে গাছে প্রথমে সামান্য জায়গায় বাদামি রং ধারণ করে। এরপর বৃদ্ধি পেতে থাকে। এক সময় গাছের কান্ডগুলো সম্পূর্ণ কালো রং ধারণ করে এবং গাছ ভেঙে যায়। এটি লেড ব্লাইড রোগ বা নাভিধস। স্থানীয় ভাষায় এটি পঁচাকানি রোগ নামে পরিচিত।

কৃষি অফিস থেকে কোনো ধরনের পরামর্শ না পাওয়ায় কৃষকরা কীটনাশকের দোকান থেকে নিজেদের পছন্দ মতো এবং দোকানিদের পরামর্শে বিভিন্ন কোম্পানির কীটনাশক ব্যবহার করছেন। তবে তা ছত্রাক দমনে কোনো ধরনের উপকারে না আসলেও লাভবান হচ্ছে কীটনাশক কোম্পানি। গত ১০ জানুয়ারি ভোরে হঠাৎ বৃষ্টি হওয়ায় আলুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আলুতে ছত্রাকের আক্রমণে এ বছর লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সদর উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নে শ্যামপুর গ্রামের কৃষক জামাল বলেন, এবার এক বিঘা জমিতে দেশি জাতের আলু আবাদ করেছেন। বিঘা প্রতি ৯/১১ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আর বিঘা প্রতি ৪০/৫৫ মণের মতো আলু হয়। তবে যে হারে ছত্রাকের আক্রমণ শুরু হয়েছে তাতে কীটনাশক প্রয়োগে ভাল না হলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সব গাছ মারা যাবে।

কৃষক মিলন হোসেন জানান, দেড় বিঘা জমি বর্গা নিয়ে তিনি আলুর আবাদ করেছেন। আলুর গাছ ভাল হলেও প্রচন্ড ঠান্ডা ও কুয়াশায় ছত্রাকের আক্রমণে মারা যাচ্ছে। কৃষি অফিসের লোকজনের কোনো পরামর্শ না পেয়ে নিজেদের ইচ্ছেমত দোকান থেকে এ পর্যন্ত দুই বার খেতে কীটনাশক দিয়েছেন। গাছে গুঁড়িগুঁড়ি আলু আসলেও দুইমাস পর তোলা শুরু হবে। আর গাছ এখনই মারা যাচ্ছে।

এছাড়াও উপজেলার কৃষক নুরুল, মোয়াজ্জেম, বকুল, জায়েদ, আনিছুর রহমানসহ অন্যান্য কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বছর আলুর খেতে ব্যাপক আকারে ছত্রাকের আক্রমণ হয়েছে। কীটনাশক দিয়েও সমাধান হচ্ছে না। আলুর আবাদে যে টাকা খরচ হয়েছে এখন সেটা ওঠানোও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। এবার আলুর আবাদে লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।

কৃর্ত্তিপুর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান বলেন, পচন রোগ নিরাময়ে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেক কৃষকের কাছে গিয়ে পরার্মশ দেয়া সম্ভব নয়।

সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মজিবার রহমান বলেন, আলুর অবস্থা ভালো আছে। প্রায় ৩০ শতাংশ আলু হারভেস্ট হয়ে গেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সত্যব্রত সাহা বলেন, এবার আলুর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। তবে আলুতে একটু রোগের আক্রমণ হয়েছে।
কৃষকদের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।



 

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
close-icon