শিরোনাম

কৃষিতে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে ফলন বৃদ্ধি

১২:৫০, জানুয়ারি ১১, ২০১৭

বর্তমানে কৃষকের আর ঘাম ঝরাতে হয়না। কৃষিতে আধুনিক উপকরণ ব্যবহারের ফলে ফলন বৃদ্ধির পাশাপাশি সময় ও শ্রম দু’টিই কমেছে কৃষকের। অল্প সময়ে অধিক ফলন উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছেন কৃষকরা। আর এ কাজে সহায়তা করছে কৃষি বিভাগ। এমন তথ্য জানালেন দিনাজপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মতলুবর রহমান।

দিনাজপুর জেলা প্রশাসন আয়োজিত জিলা স্কুল মাঠে ৩ দিনব্যাপাী অনুষ্ঠিত “উন্নয়ন মেলা-২০১৭” উপলক্ষে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের স্টল পরিদর্শনের সময় এ প্রতিনিধির সাথে কথা বলেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মতলুবর রহমান। এ সময় তিনি মেলায় অংশ নেয়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখান এবং কৃষিতে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের বিভিন্ন কৌশল উপস্থাপন করেন।

কৃষি কর্মকর্তা মো. মতলুবর রহমান বলেন, এক সময় আমাদের দেশে কৃষি কাজে প্রাচীন কৃষি উপকরণ ব্যবহার হতো। কৃষকরা জমি চাষের জন্য প্রাচীন কৃষি উপকরণ যেমন লাঙ্গল, জোয়াল, মই, পানি সেচের জন্য সেউতি ও দোন এবং নিড়ানোর জন্য আচড়া ইত্যাদি ব্যবহার করতো। এতে করে কৃষকের অধিক সময় অপচয় হতো ও অধিক শ্রমও দিতে হতো। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে বর্তমান আধুনিক কৃষি উপকরণ ব্যবহারের ফলে কৃষকরা অনেক দূর এগিয়ে গেছেন। তারা খুব স্বল্প সময়ে বেশী ফলন উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছেন।এতে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি অনেক সময়ও সাশ্রয় হয়েছে।

তিনি বলেন, আজ থেকে ২০-২৫ বছর আগেও আমাদের দেশে কৃষকরা জমি চাষের জন্য লাঙ্গল, জোয়াল, মইসহ অন্যান্য প্রাচীন উপকরণ ব্যবহার করতেন। কিন্তু বিজ্ঞানের অবদানে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় আমাদের দেশের কৃষকরাও প্রাচীন এসব উপকরণ ব্যবহারের পরিবর্তে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছেন।

বর্তমানে তারা জমি চাষের জন্য পাওয়া টিলার ব্যবহার করছেন। এতে করে অল্প সময়ে অনেক বেশী জমি চাষ করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে কৃষকের সময় সাশ্রয় হওয়ার পাশাপাশি শ্রম কমে গেছে এবং এর ফলে ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে। আগে কৃষকরা জমিতে পানি সেচের জন্য সেউতি ও দোন’র মতো হস্তচালিত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতেন। কিন্তু বর্তমানে পাওয়ার টিলার, ডিপ টিউবওয়েল, ফিতা পাইপ, বরিডপাইপ এসব ব্যবহার করছেন।

কৃষি কর্মকর্তা মো. মতলুবর রহমান আরো বলেন, এখন কোন কিছুই হাতে করতে হয় না। সবই যন্ত্রের সাহায্যে করা হয়। জমিতে সেচ দেয়া, চাষ করা, চারা রোপন, জমি নিড়ানো, জমিতে বীজ বোনা, ধান কাটা, ধান মাড়াই সার প্রয়োগসহ সবই যন্ত্রের সাহায্যে করা হয়। এতে কৃষকের যেমন সময় সাশ্রয় হয়, তেমনই খরচ ও শ্রমও অনেক কমে গেছে। আর ফসল উৎপাদনও বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে গরু দ্বারা, হাত দ্বারা, পা চালিত থ্রেসার দ্বারা ধান মাড়াই করা হতো।

কিন্তু বর্তমানে পাওয়ার থ্রেসার ও কম্বাইন্ড হারভেষ্টার দ্বারা ধান মাড়াই করা হয়। আগে দোনে ও পা চালিত ঢেঁকী কল দ্বারা জমিতে সেচ দেয়া হতো, কিন্তু বর্তমানে গভীর ও অগভীর নলকুপ দ্বারা জমি সেচ দেয়া হয়। আগে জমিতে হাতে সার ছিটানো হতো, বর্তমানে যন্ত্রের সাহায্যে সার ছিটানো হয়। এইভাবে প্রতিটি ক্ষেত্রে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ফলে কৃষকের শ্রম ও সময় দুটোই সাশ্রয় হচ্ছে। আর ফলনও বৃদ্ধি পেয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তা বলেন, আগামীতে আরো উন্নতমানের কৃষি উপকরণ ও কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে দেশে খাদ্য উৎপাদন অনেকাংশে বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। উন্নয়ন মেলায় বিভিন্ন ধরনের কৃষি উৎপাদিত পন্য ও কৃষি যন্ত্রপাতি প্রদর্শন করে মেলার শ্রী বৃদ্ধি করেছে। এ ধরনের উদ্যোগ দেশের কৃষি ও কৃষককে অনুপ্রানিত করবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত