লেবু চাষে ভাগ্য খুলে গেছে মোসলেম উদ্দিনের

সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি | ১২:৪২, জানুয়ারি ১১, ২০১৭

উদ্যম ও মেধা কাজে লাগিয়ে ফেরিওয়ালা থেকে এখন সফল লেবুচাষি সখীপুরের মোসলেম উদ্দিন। তার বাগানে গাছের সংখ্যা ছয় হাজার। তিন বছর আগে তিনি কলম-চারা লাগিয়ে ২০১৬ সালে ওই বাগানের লেবু বিক্রি করে ১০ লাখ, কলম-চারা থেকে আট লাখ ও সাথী ফসল পেঁপেঁ বিক্রি করে চার লাখ টাকা পেয়েছেন।

এটি সিডলেস জাতীয় লেবু। এ জাতের লেবুতে বিচি কম ও রস বেশি। রোপনের দুই বছর পর থেকে প্রতিটি গাছ থেকে এক হাজার থেকে এক হাজার ৫০০ লেবু তুলছেন তিনি। অন্য লেবুর তুলনায় এ জাতের লেবু খেতে বেশি সুস্বাদুু। স্থানীয় বাজারে এ লেবুর চাহিদা অনেক বেশি। তিনি ওই বাগানের নাম রেখেছেন ‘নদী লেমন গার্ডেন’।

বাগান মালিক মোসলেমউদ্দিন প্রতিবছর ওই বাগান থেকে ১০ লাখ টাকার লেবু বিক্রি করার আশাবাদ করে আমার সংবাদকে বলেন, ‘১০০ শতাংশ জমিতে লেবুর বাগান থাকলে ওই ব্যক্তির সংসারের খরচ চালাতে আর অন্য কোনো সহযোগিতা নিতে হয় না।’

উপজেলার কীর্ত্তনখোলা গ্রামের বাসিন্দা মোসলেমউদ্দিন ২০১৩ সালে গজারিয়া গ্রামে প্রতিবছর এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করে ভাড়া দেওয়ার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন জমি মালিকের কাছ থেকে ছয় একর ৫০ শতাংশ জমি ১০ বছরের জন্য ইজারা (লিজ) নিয়ে লেবুর চারা রোপন করেন। এর আগে তিনি ফেরি করে ‘বড়ই আচার’ বিক্রি ও বছরভিত্তিক অন্যের বাড়িতে রাখালের কাজ করতেন।

মোসলেসকে দেখে এখন অনেকেই লেবুর বাগান করতে উৎসাহী হয়ে উঠছেন। ইতোমধ্যে তার বাগান থেকে লেবুর কলম চারা নিয়ে ময়মনসিংহের ভালুকা, ফুলবাড়িয়া, গাজীপুর ও শ্রীপুরের মাওনা এলাকার অনেক চাষি লেবু বাগান করার জন্য আট লাখ টাকার চারা কিনে নিয়েছেন। পাশের উপজেলা ঘাটাইলের বাাসিন্দা শামসুল হক নামে সাবেক এক ব্যাংক কর্মকর্তা ওই বাগান থেকে ১২ হাজার চারা কিনে বাগান করতে শুরু করেছেন। প্রতি একরে ৮০০ থেকে ৯০০ চারা রোপন করা যায়। চারা রোপনের এক বছর পর থেকেই ফলন দিতে শুরু করে এ জাতের লেবু।

মোসলেম উদ্দিন জাানান, তিনি নিজে কৌশল করে আধুনিক পদ্ধতিতে পাইপ ব্যবহার করে একটি সুইচের মাাধ্যমে ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে প্রতিটি গাছের গোড়ায় পানি পৌঁছে দেন। এতে বাগানে শ্রমিক খরচ কম হয় ও পানি অপচয় হয় না। তার বাগানে এখন পাঁচজন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন।

এছাড়াও তিনি কীর্ত্তন খোলা গ্রামে ৫ একর জমি লিজ নিয়ে টক বরই এর বাগান করেছেন।ওই বাগানে এবছরই ফল আসতে শুরু করেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ফায়জুল ইসলাম ভূইয়া আমার সংবাদকে জানান, এ জাতের লেবুর উৎস অনুসন্ধান করা হচ্ছে। এটি একটি অর্থকরী ফসল। তাকে দেখে অনেকেই লেবু চাষে উৎসাহিত হয়ে উঠেছেন। মোসলেম এখন সখীপুরে লেবু চাষে মডেল।

 

 

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
close-icon