রৌমারীতে মৌমাছি খামার করে স্বাবলম্বি ফরহাদ

রৌমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি | ১৪:২০, ডিসেম্বর ২১, ২০১৬

মৌমাছি খামার করে মধু চাষে স্বাবলম্বি ফরহাদ।কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলাধীন যাদুরচরের কোমরভাঙ্গী গ্রামের মৃত্যু আব্দুর রশিদ এর পুত্র মোঃ ফরহাদ হোসেন, বেকার জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করে মৌমাছি খামার করে সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছে। পিতার অভাব অনটনের সংসারে অতিকষ্টে এসএসসি পাশ করলেও অর্থাভাবে ভাগ্যে জুটিনি উচ্চশিক্ষা লাভ।

পিতার নুন আনতে পানতা ফুরানো সংসারে ৬ ভাই, ৩ বোন, পিতৃহীন ১০ সদস্যের পরিবারের অন্ন জোটাতে জমিজিরাত হীন পিতার সংসারে ফরহাদকে হাল ধরতে হয় সংসারের। অল্প পুজি ও অতিরিক্ত শ্রম দিয়ে স্বাবলম্বি হওয়ার স্বপ্ন দেখে ফরহাদ। যেহেতু সারাদেশের চেয়ে রৌমারীতে সর্বোচ্চ সরিষা চাষ হয়, তাই ফরহাদ মৌমাছি পালন করে। সরিষা থেকে মধু উৎপাদনের মাধ্যমে সংসারের অভাব দূর করার স্বপ্ন দেখে।

তিনি গাজিপুর কাপাসিয়া মৌমাছি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে ১ বছর মধু চাষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ শেষে ফরহাদ প্রথমে ৩লাখ টাকায় ৮০বাক্স বন্দি মৌমাছি ক্রয় করেন।তা দিয়ে তিনি প্রথমে নিজ এলাকায় মধু সংগ্রহের কাজ শুর করেন। প্রথম বছরই তিনি মধু চাষ করে ১০ লাখ টাকা আয় করেন। বর্তমানে তার মৌমাছির সংখ্যা ২শ বাক্স।

কিন্তু অপরদিকে এলাকায় মধু চাষীর চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় ফরহাদ মাছি বন্ধি বাক্স তৈয়ারীর প্রকল্প হাতে নেন। এবছর মৌমাছিসহ বাক্স বিক্রি করে আয় করেন ৪ লাখ টাকা। যেখানে তার বর্তমানে ১২ লাখ টাকা পুজি খাটছে যাহা থেকে প্রতি সপ্তাহে মধু সংগ্রহ হচ্ছে ২০ মন।

এব্যাপারে ফরহাদের সাথে সাক্ষাতকালে তিনি বলেন, মৌমাছি চাষ প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে আধুনিক পদ্ধতিতে মৌমাছিকে বাক্স বন্দি করে মধু উৎপাদন করে মধু সংগ্রহের পদ্ধতি অবলম্বন করেন। উক্ত আয় থেকে ভাই-বোনের পড়া-লেখা ও সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন। বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে ২০মন মধু পাওয়া যাচ্ছে, যাহা ৩শ টাকা দরে বিক্রি করে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এপি,প্রাণ, ডাবরসহ বিভিন্ন কোম্পানীতে বিক্রয় করা হচ্ছে।
কিন্ত কৃষকের অচেতনতা মৌমাছির দ্বাড়া ফসলের পরাগায়ন সম্পর্কে অজানা থাকায় খেয়াল খুশি মত জমিতে কীট নাশক প্রয়োগ করায় মৌমাছির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

সরিষা ক্ষেতে কীটনাশক প্রয়োগ ও মৌমাছির মধু সংগ্রহের বিষয়ে রৌমারী উপজেলা কৃষি সমপ্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ আজিজুল হক এর সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, সরিষা ক্ষেতে দুইবার কীটনাশক প্রয়োগ করার উপযুক্ত সময়। প্রথম সরিষা ক্ষেতে ফুল আসার পূর্বে ১ বার, ও ফুল ঝরে যাওয়ার পরে ১ বার সরিষা ক্ষেতে কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়।যখন সরিষার ফুল ফোটে তখন পরাগায়নের উপযুক্ত সময়।পরাগায়ন সাধারনত মৌমাছিদের মাধ্যমে হয়ে থাকে। একটি ফুলের পরাগরেনু মৌমাছির পায়ের সাথে লেগে গর্ভায়নে লাগলে পরাগায়ন সংঘটিত হয়। এতে সরিষার ফলন বৃদ্ধি পায়।

তাই ফুল ফোটার সময় সরিষা ক্ষেতে কীটনাশক স্প্রে করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়না। তিনি আরো বলেন, এব্যাপারে কৃষককে সচেতন করার লক্ষ্যে পুরো এলাকায় সপ্তাহ ব্যাপি মইকিং ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কৃষকদের মাঠ সমাবেশের মাধ্যমে ফসল বৃদ্ধির দিকনির্দেশনা মূলক পরামর্শ দিতে বলা হয়েছে।

 



 

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
close-icon