শিরোনাম

পীরগঞ্জে মরিচের দরপতনে চাষীদের মাথায় হাত

আব্দুল করিম সরকার,পীরগঞ্জ (রংপুর)  |  ১৩:৪৮, জুন ২৪, ২০১৯

রংপুরের পীরগঞ্জসহ ৮ উপজেলায় গত সপ্তাহ থেকে মরিচের বাজারে হঠাৎ দরপতন হেয়েছে। ১৫ দিনে আগেও যেখানে প্রতি মন মরিচ বিক্রি হয়েছে ২ হাজার টাকায়। সেখানে চলতি সপ্তাহে প্রতি মন মরিচ মাত্র ৪ থেকে সাড়ে ৪শ’ টাকা মন দরে বিক্রি হচ্ছে। মরিচের বাজারের এই অবস্থায় মরিচ চাষীদের চোখে সরিষার ফুল দেখতে শুরু করেছে।

কৃষকরা জানান, বর্তমান বাজারে তাদের উৎপাদন খরচই উঠছে না। পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও পীরগঞ্জ উপজেলার ১৫ ইউনিয়নে চলতি মওসুমে ৩শ’ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ হয়েছে। অন্যান্য উপজেলায় অন্যান্য বছরের মত মরিচের আবাদ হয়েছে।

মওসুমের শুরুতেই প্রতি মন মরিচ ২ হাজার টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ৪ থেকে সাড়ে ৪শ’ টাকা মন দরে বিক্রি হচ্ছে। গত শনিবার পীরগঞ্জ উপজেলা চতরাহাট, বড়দরগাহ, ধাপেরহাট, মাদারহাট, বটেরহাট, খেদমতপুর বাজার, মাদারগঞ্জ, সানেরহাট, খালাশপীর, বালুয়া, মিঠাপুকুরে ছড়ান বালুয়া, শেরুডাঙ্গা, মাঠেরহাট, বৈরাতী, বালারহাট, শঠিবাড়ি, জায়গীর, পীরগাছার দেউতি, চৌধুরাণী বাজারে প্রতি মন মরিচ মাত্র ৪ থেকে সাড়ে ৪শ’ টাকা মন দরে বিক্রি হয়েছে মর্মে খবর পাওয়া গেছে।

জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। পীরগঞ্জ উপজেলার চতরা হতে লালদীঘিগামী সড়কের পাশে শতশত একর জমিতে আবাদকৃত মরিচের ক্ষেত চোখে পড়ার মতো। এসব জমিতে এক সময় ডাল পাট, কলাসহ অন্যান্য ফসল আবাদ হতো। এসব ফসল উৎপাদন ব্যয় বেশি হওয়ায় এবং পক্ষান্তরে মরিচের আবাদ লাভজনক হওয়ার কারণে চাষিরা গত কয়েক বছর ধরে মরিচের আবাদে ঝুঁকে পড়েছে।

গোটা মওসুমে টানা বর্ষণ না হওয়ায় জমিতে মরিচের গাছে ফলনও হয়েছে অনেক বেশি। পর্যাপ্ত উৎপাদন হওয়ায় স্থানীয় চাহিদার যোগান দিয়েও রাজধানীসহ অন্যান্য জেলায় মরিচ রফতানির উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়ায় চাষিদের লালিত স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেছে। পীরগঞ্জ উপজেলার মিলনপুর গ্রামের মরিচ চাষি আবেদ আলী জানায়, তার পঞ্চাশ শতক জমিতে প্রতি সপ্তাহে ৮ থেকে ১০ মন মরিচ উঠছে।

শুরুতেই সামান্য দাম পাওয়া গেলেও বর্তমানে মরিচ তোলার শ্রমিক খরচ, পরিবহন, কীটনাশক প্রয়োগের খরচই উঠছে না। একই গ্রামের চাষী শাজাহান আলী, আব্দুল জব্বার, এমদাদুল হক, তাজপুর গ্রামের রহমত আলী, আবু তাহের, গাড়াবেড় গ্রামের তোফাজ্জল মেম্বার, বাহাদুরপুর গ্রামের খায়রুল মাস্টার জানান, তাদের জমিতে গত সপ্তাহ থেকে মরিচ উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছেন বাজারে দরপতন নামার কারণে। মিলনপুর গ্রামের মরিচ ব্যবসায়ী মধু মিয়া জানায়, সস্তার বাজারে কোন কাচা মালের ব্যবসা হয় না।

বর্তমানে মরিচের বাজারেও তাই হয়েছে। মওসুমের শুরুতেই প্রতি ট্রাক মরিচ দু’লাখ টাকায় কেনা হতো। সে সময় বর্নিত হাটবাজারগুলো থেকে প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ ট্রাক মরিচ দেশের বিভিন্নস্থানে পাঠানো হতো।

অথচ বর্তমান বাজারে তা মাত্র চল্লিশ হাজার টাকায় কেনা সম্ভব হচ্ছে। চাহিদা না থাকায় প্রতিদিন ৫ থেকে ৮ ট্রাক মরিচও পাঠানো যাচ্ছে না। এ অবস্থায় কোন আড়ত চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার সাদেকুল ইসলাম জানান- আবাদ বেশি এবং পরিবেশ অনুকুলে থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

এমআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত