শিরোনাম

লালপুরে পাটচাষ বৃদ্ধি পেলেও দাম নিয়ে হতাশ কৃষক

মো. আশিকুর রহমান টুটুল, লালপুর (নাটোর)  |  ১৪:৩৮, জুন ২৩, ২০১৯

শ্রমিক সংকট, শ্রমিকের অধিক মূল্য ও উৎপাদিত পাটের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় গত দুই বছর থেকে নাটোরের লালপুর অঞ্চলের পাট চাষিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দুই বছরের ক্ষতির বোঝা মাথায় তারপরও এ বছর লাভের মুখ দেখবেন এমটা আশা করে আবারো পাটচাষ করেছেন এই অঞ্চলের চাষীরা।

লালপুর উপজেলার অনেক পাটচাষি গত দুই বছর থেকে পাটচাষ করতে গিয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এ বছর চড়া সুদে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে পাটচাষ করেছেন। তবে এ বছরও কি পাটের ন্যায্যমূল্য তারা পবেন? এমন প্রশ্নে উজেলার প্রতিটি পাট চাষির রাতের ঘুম যেন হারাম হয়ে গেছে। প্রতিটি পাট চাষির চেহারায় এখন হাতাশার চিহ্ন।

গতকাল সকালে লালপুর উপজেলার বড়ময়না, নান্দ, ওয়ালিয়া, লালপুর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, লোকসান জেনেও চাষিরা তাদের সবকিছু দিয়ে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে নিবির পরিচর্যায় সবুজ পাট গাছে ভরে তুলেছেন জমি। এখন পালা শুধু পাটগাছ কাটা, জাগ দেয়া, পাটগাছ থেকে আঁশ ছোড়ানো ও শুখানো।

লালপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে লালপুর উপজেলায় মোট ৫ হাজার ৯১০ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে। গত বছর এই উপজেলায় ৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছিল।

উপজেলার পাটচাষি রেজাউল ইসলাম আমার সংবাদ কে বলেন, গত দুই বছর থেকে পাটচাষ করে লোকসান হচ্ছে, এ বছর কাক্সিক্ষত দাম পেলে বিগত দিনের ক্ষতি কিছুটা হলেও পোষাবে ভেবে এবারও পাটের চাষ করেছেন তিনি। মিন্টু নামের এক চাষি বলেন, দাম না পেয়ে পাটচাষ করে শেষ হয়ে গেছি, তারপরও ঋণের বোঝা মাথাই নিয়েই এ বছরও পাটচাষ করেছি। এ বছর পাটের দাম না পেলে মরা ছাড়া কোনো গতি নেই।

লালপুর উপজেলা কৃষি অফিসার রফিকুল ইসলাম আমার সংবাদ কে বলেন, লালপুরে প্রতিবছরই পাটচাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে, গত দুই বছর থেকে পাটের সঠিক দাম না পেয়ে অনেক চাষি হতাশ হয়েছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় মাঠপর্যায়ে কৃষকদের পাট চাষের বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদানে তারা বেশি বেশি পাটের চাষ করেছেন। পাটের সঠিক দাম পেলে আগামীতে এই উপজেলায় পাটচাষ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা।

এমআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত