শিরোনাম

গুরুদাসপুরে রোপা আউশ ধান চাষের ধুম

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি  |  ১৩:২৮, জুন ১৬, ২০১৯

আষাঢ়ের বৃষ্টিতে খেতে পানি জমেছে। নরম মাটির কণা চাষ দিয়ে উপযোগী করছে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার কৃষক। চলছে রোপা আউশ ধানের চারা রোপন। অনেক মাঠে পাট ও ব্রী-৫৫-২৮ জাতের ধান থাকায় এক সঙ্গে রোপন করতে পারছেনা।

উপজেলার নাজিরপুর, চাপিলা, বিয়াঘাট, মশিন্দ, খুবজীপুর ও ধারাবারিষা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সেচ ছাড়াই খেতে চারা রোপন করছে কৃষক। কেউ কেউ বীজতলা থেকে চারা সংগ্রহ করেই রোপনে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে কৃষকের এ কর্মযজ্ঞ। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিরা গরু-মহিষ দিয়ে জমি প্রস্তুত করলেও অবস্থাশালী ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির কৃষক কলের লাঙল দিয়ে জমি চাষ করছেন। যাদের নিজের সেচযন্ত্র-লাঙ্গল নেই, তারা ভাড়ায় করছেন।

বিয়াঘাট ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক, আসকান ও হান্নান ইসলামসহ কমপক্ষে ১৫জন কৃষকের সাথে বলে জানাগেছে, তাদের মাঠে গম-ভুট্টা ও ব্রি-২৯ জাতের ধান ছিল। বৃষ্টিপাত না থাকায় সেচ দিয়ে আবাদ করেছিলেন তারা।

উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের সিধুলি গ্রামের কয়েকজন কৃষক জানান, এলাকার কৃষক রসুন তুলে কেউ পাট কেউ অন্যজাতের ধানের আবাদ করেন। এখন রোপা আউশ ধান করা হচ্ছে। আশাঢ়ের শুরুর দিনের বৃষ্টিতেই আবাদের উপযোগী হয়ে উঠেছে খেত। তবে বীজতলা তৈরি করতে সেচ সুবিধা নিতে হয়েছিল।

কৃষকদের তথ্যমতে, একবিঘা জমিতে রোপা আউশ ধান করতে বীজ, জমি প্রস্তুত, শ্রমিক এবং রোপন বাবদ খরচ হচ্ছে গড়ে ৭হাজার টাকা। তবে অপেক্ষাকৃত নিচু জমিতে খরচ হয় ৫হাজার টাকা। তবে মাঝে মাঝে বৃষ্টিপাত হলে চাষাবাদ সহজ হতো। চারা রোপনের পর বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে ধানের উৎপাদন খরচ কমে যাবে-ফলনও হবে ভালো।

উপজেলা কৃষি অফিস স‍ূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে ২ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে রোপা আউশ ধানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। আশাঢ়ের শুরু দিনেই বৃষ্টিপাত হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল করিম বলেন, অন্য আবাদের চেয়ে এ আবাদে সেচ-সার-কীটনাশক কম দিতে হয়। এতে খরচ কমে। উৎপাদন বাড়ায় লাভবান হন কৃষক।

এমআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত