জমেছে ঐতিহ্যবাহী সূর্য্যপুরী আমের বাজার

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি  |  ২২:৪০, জুন ১৫, ২০১৯

জমে উঠেছে ঠাকুরগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী সুস্বাদু সূর্য্যপুরী আমের বাজার। অন্যান্য বছরের মতো এ মৌসুমে বাজারে ঠাকুরগাঁওয়ের এ বিশেষ জাতের আমের চাহিদা রয়েছে ব্যাপক। আর তাই ব্যস্ত সময় পার করছেন এখানকার আম ব্যাপারীরা।

প্রতি মৌসুমে ঠাকুরগাঁও রোড যুব সংসদ মাঠে জেলার সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজারে আম বিক্রিতে ব্যস্ত থাকেন স্থানীয় ও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা আম ব্যাপারীরা। এ ছাড়াও জেলার এ ঐতিহ্যবাহী আমকে ঘিরে প্রতি বছরেই শহরের তাঁতীপাড়ায় গড়ে উঠে মৌসুমী নতুন আমের বাজার।

এ জেলার সূর্য্যপুরি আমের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এখনকার বাজারে মণপ্রতি সূর্য্যপুরি ১২ থেকে ১৬শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। জয়পুরহাট ও সিরাজগঞ্জ থেকে ঠাকুরগাঁওয়ে আসা আম ব্যাপারী আসলাম উদ্দিন জানান, প্রতি মৌসুমে আমরা ঠাকুরগাঁও জেলা থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এ আম পাঠাই।

এ জেলার সূর্য্যপুরি আম অন্যান্য জেলার আমের চেয়ে স্বাদে একদম আলাদা এবং এখানকার আমের চাহিদাও অনেক। এছাড়া দাম অনেক কম ও কেজিতে ছয় থেকে আটটি আম পাওয়া যায়। তাই ক্রেতারাও খুশি। আমরা শ’ হিসেবে আম ক্রয় করি, বর্তমান বাজার দরে আকার ভেদে ১০০ আম ৪০০ থেকে ৭০০ টাকায় ক্রয় করছি।

জেলার কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক আফতাব হোসেন জানান, খেতে সুস্বাদু সূর্য্যপুরী আম শুধু এ জেলাতেই উৎপাদিত হয়। অত্যন্ত সুস্বাদু এ আম প্রাকৃতিক নিয়মে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করে খাওয়া যায়।

এর প্রতি ফলের ওজন ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম এবং মিষ্টতা ২৩ টিএসএস। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এ আমে ভিটামিন এ. বি. কপার. পটাশিয়াম. ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালরিসমৃদ্ধ। ওষুধি গুণেও এ আম অনন্য। বিশেষ করে ক্যান্সার প্রতিরোধে, কোলেস্টরেল কমাতে, হজম শক্তি বৃদ্ধিতে ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এবং চর্মরোগে উপকারী।

তিনি আরো বলেন, জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মাটি এ আম চাষের জন্য বেশি উপযোগী। এ বছর বাম্পার ফলন না হলেও ১৬৪ হেক্টর জমিতে পাঁচ হাজার ২৪৮ মে.টন আম উৎপাদন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে এবং যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটির টাকারও বেশি।