শিরোনাম

সিরাজদিখানে গাছে গাছে ঝুলছে কাঁঠাল

আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ)  |  ১৫:২৬, জুন ০১, ২০১৯

সিরাজদিখানে গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে রসালো ফল কাঁঠাল। এবার সিরাজদিখান উপজেলার ১৪ ইউনিয়নে গাছে গাছে ঝুলছে কাঁঠাল। এই অঞ্চলে বন্যা না হওয়ায় উপজেলা জুড়ে ব্যাপক ভাবে কাঠাল ধরেছে গাছে। কাঁঠাল শুধু একটি সুস্বাদু আর সু-পরিচিত ফলই নয়। এটি বাংলাদেশে জাতীয় ফল। এছাড়াও বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে কাঁঠাল গাছ রয়েছে প্রচুর পরিমাণে। আর এসব কাঁঠাল গাছে জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে ফুল আসা শুরু হলেও কিছু কিছু আগাম ফলনশীল কাঁঠাল গাছে ফুল আসে সময়ের অনেক আগেই।

উপজেলার বয়রাগাদী ইউনিয়নের মো. ওয়াজেদ শেখ এর বাড়ীতে গিয়ে দেখা যায় কাঁঠাল গাছে প্রায় ৩ কেজি থেকে ৭-৮ কেজি ৩০ থেকে ৪০ টা পর্যন্ত কাঁঠাল ধরতে দেখা গেছে। প্রতি বছর গাছটিতে ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই আগাম কাঁঠাল ধরে এবং এসব কাঁঠাল আগেই পেকে যায়। পরে মৌসুমের সময় আবারও কাঁঠাল ধরে। সব মিলে গাছটিতে প্রায় ১শ থেকে ২শতাধিক কাঁঠাল ধরে।

সিরাজদিখান উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা মো.মিজানুর রহমান আমার সংবাদকে বলেন, কিছু কিছু গাছ আছে সময়ের আগেই ফল আসে। আবার কতগুলো গাছ আছে প্রায় সারা বছর ধরে। কিন্তু এসব কাঁঠাল মৌসুমী ফলের মত ততটা স্বাদ হয় না।

বাংলাদেশের যে সব কাঁঠাল পাওয়া যায় তার মধ্যে গালা, খাজা এবং হাজারী কাঁঠাল উল্লেখযোগ্য। তবে ভারতসহ অন্যান্য দেশে রসখাজা, রুদ্রাক্ষি, সিঙ্গাপুর, সিলোন, বারোমাসী, গোলাপগন্ধা, চম্পাগন্ধা, পদ্মরাজ কাঁঠাল রয়েছে। কাঁঠালে এসব জাত ছাড়াও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ২০০৮ সালে বারি কাঁঠাল-১ এবং ২০১০ সালে বারি কাঁঠাল-২ নামে দুটি উচ্চ ফলনশীল জাতের কাঁঠাল উদ্ভাবন করে।

কাঁঠাল এমন একটি ফল যার প্রতিটি অংশই কোন না কোন কাজে লাগে। কাঁঠালের কোয়া খাওয়ার পর বীজ ও ছোট কাঁঠাল ফল তরকারি হিসেবে জনপ্রিয় এবং কাঁঠালের খোসা গরু-ছাগলের পুষ্টিকর পছন্দের খাদ্য।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. বদিউজ্জামান আমার সংবাদকে বলেন, কাঁঠালে চর্র্বির পরিমাণ নিতান্ত কম। এই ফল খাওয়ার কারণে ওজন বৃদ্ধির আশংকা কম। কাঁঠাল পটাশিয়ামের উৎকৃষ্ট উৎস।

১০০ গ্রাম কাঁঠালে পটাশিয়ামের পরিমাণ ৩০৩ মিলিগ্রাম। যারা পটাশিয়াম উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। এ জন্যে কাঁঠালে উচ্চ রক্ত চাপের উপশম হয়। কাঁঠালে প্রচুর ভিটামিন এ আছে, যা রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে। কাঁঠালের অন্যতম উপযোগিতা হল ভিটামিন সি।

প্রাকৃতিকভাবে মানবদেহে ভিটামিন “সি” তৈরি হয় না। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দাঁতের মাড়িকে শক্তিশালী করে ভিটামিন “সি”। কাঁঠালে বিদ্যমান ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস- আলসার, ক্যান্সার, উচ্চ রক্তচাপ এবং বার্ধক্য প্রতিরোধে সক্ষম।

কাঁঠালে আছে শক্তিশালী অ্যান্টি অক্সিডেন্ট যা আমাদের দেহকে ক্ষতিকর ফ্রির‌্যাডিকেলস থেকে রক্ষা করে। এছাড়াও আমাদেরকে সর্দি-কাশি রোগের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। টেনশন এবং নার্ভাসনেস কমাতে কাঁঠাল বেশ কার্যকরী। বদহজম রোধ করে কাঁঠাল। কাঁঠাল গাছের শেকড় হাঁপানী উপশম করে। শেকড় সেদ্ধ করলে যে উৎকৃষ্ট পুষ্টি উপাদান নিষ্কাশিত হয় তা হাঁপানীর প্রকোম নিয়ন্ত্রণে সক্ষম। চর্মরোগের সমস্যা সমাধানেও কাঁঠালের শেকড় কার্যকরী।

জ্বর এবং ডায়রিয়া নিরাময় করে কাঁঠালের শেকড়। কাঁঠালে আছে বিপুল পরিমাণে খনিজ উপাদান ম্যাঙ্গানিজ যা রক্তে শর্করা বা চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। কাঁঠালে বিদ্যমান ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়ামের মত হাড়ের গঠন ও হাড় শক্তিশালী করণে ভূমিকা পালন করে। কাঁঠালে আছে ভিটামিন বি৬ যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। কাঁঠালে বিদ্যমান ক্যালসিয়ম কেবল হাড়ের জন্য উপকারী নয় রক্ত সংকোচন প্রক্রিয়া সমাধানেও ভূমিকা রাখে।

ছয় মাস বয়সের পর থেকে মায়ের দুধের পাশাপাশি শিশুকে কাঁঠালের রস খাওয়ালে শিশুর ক্ষুধা নিবারণ হয়। অন্যদিকে তার প্রয়োজনীয় ভিটামিনের অভাব পূরণ হয়। চিকিৎসা শাস্ত্র মতে প্রতিদিন ২০০ গ্রাম তাজা পাকা কাঁঠাল খেলে গর্ভবতী মহিলা ও তার গর্ভধারণকৃত শিশুর সব ধরনের পুষ্টির অভাব দূর হয়।

গর্ভবতী মহিলারা কাঁঠাল খেলে তার স্বাস্থ্য স্বাভাবিক থাকে এবং গর্ভস্থসন্তানের বৃদ্ধি স্বাভাবিক হয়। দুগ্ধদানকারী মা তাজা পাকা কাঁঠাল খেলে দুধের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। এই ফল আঁশালো বিধায় কোষ্ঠকাঠিণ্য দূর করে। কাঁঠালে রয়েছে খনিজ উপাদান আয়রণ যা দেহের রক্তাল্পতা দূর করে। এই জন্যই কাঠাল বেশী করে খেতে হবে ।

এমআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত