শিরোনাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় লিচুর বাম্পার ফলনে চাষিদের মুখে হাসি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি  |  ২২:৪২, মে ২০, ২০১৯

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলায় এ বছর রসালো ফল লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে করে চাষিদের মুখে এখন তৃপ্তির হাসি।

আবহাওয়া ভালো থাকায় এবং ঝড়-বৃষ্টি কম হওয়ায় এ বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছেন চাষিরা। কৃষি বিভাগের দাবি এ বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৪৫০ হেক্টর জমিতে সাড়ে ৬০০ মেট্রিক টন লিচু উৎপাদিত হবে।

যার বাজার মূল্য আনুমানিক ১৫ কোটি টাকা। তাদের আশা লিচুর উৎপাদন এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা কসবা, আখাউড়া ও বিজয়নগর উপজেলার পাহাড়ি জমিতে লিচুর চাষ করা হয়।

তবে সবচেয়ে বেশি লেচুর বাগান বিজয়নগর উপজেলায়। বিজয়নগর উপজেলার লিচু মিষ্টি ও রসালো হওয়ায় দেশজুড়ে রয়েছে এই লিচুর খ্যাতি।

বিজয়নগর উপজেলার পাহাড়পুর, বিষ্ণুপুর, কাঞ্চনপুর, খাটিঙ্গা, কাশিমপুর, সিঙ্গারবিল, চম্পকনগর, কালাছড়া, মেরাশানী, কামাল মোড়া, নূরপুর, হরষপুর, ধোরানাল, মুকুন্দপুর, সেজামুড়া, নোয়াগাঁও, অলিপুর, চান্দপুর, মেরাশানী, কাশিনগর, ছতুরপুর, রূপা, শান্তামোড়া, কামালপুর, কচুয়ামোড়া, ভিটি দাউদপুর এলাকায় রয়েছে প্রায় ৩ শতাধিক লিচুর বাগান।

লিচুর ব্যবসা লাভজনক হওয়ায় ওইসব এলাকার লিচু চাষিরা ধানী জমিতেও লিচুর চাষ করছেন। এসব বাগানে মহিলাসহ সব বয়সী লোকজন কাজ করে। বিজয়নগর উপজেলার সবচেয়ে বড় লিচুর বাজার হচ্ছে আউলিয়া বাজার ও মেরাশানী।

এ ছাড়াও উপজেলার মুকুন্দপুর, কাংকইরা বাজার, চম্পকনগর, সিঙ্গারবিল বাজার, আমতলী বাজারসহ আরো কয়েকটি বাজারে পাইকারিভাবে লিচু বেচা-কেনা হয়। এসব বাজার থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিলা, নরসিংদী, ভৈরব, নোয়াখালী, চাঁদপুর, মৌলভীবাজার, সিলেট, শ্রীমঙ্গল, হবিগঞ্জ, ফেনী ও রাজধানী ঢাকার ব্যবসায়ীরা লিচু কিনে ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে নিয়ে যায়।

এলাকাবাসী জানান, প্রতিদিন কাকডাকা ভোরে শুরু হয় লিচু বেচা-কেনা। শুধু আউলিয়া বাজারেই প্রতিদিন অর্ধকোটি টাকার লিচু বেচাকেনা হয়। এ ছাড়া মেরাশানী বাজারে প্রতিদিন প্রায় ১৫ লাখ টাকার লিচু বেচাকেনা হয়। এ বছর লিচুর দাম ভালো হওয়ায় চাষিরা দারুণ খুশি। রাত ৩টা থেকে লিচুর বাগানের মালিকেরা লিচু নিয়ে ওই দুটি বাজারে যায়। ভোর ৬টার মধ্যেই লিচুর কেনাবেচা শেষ হয়ে যায়। লিচু চাষিরা জানান, বিজয়নগরে পাটনাই, বোম্বাই, চায়না থ্রি ও এলাচি জাতের লিচু চাষ করা হয়। এলাচি ও চায়না থ্রি জাতের লিচু আকারে একটু বড়। চাষিরা জানান, আবহাওয়া ভালো থাকায় ও সার কীটনাশকের দাম সহজলভ্য হওয়ায় এ বছর লিচুর ভালো ফলন হয়েছে।

এ ব্যাপারে কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপ-পরিচালক মো. আবু নাসের জানান, কৃষি বিভাগ লিচুচাষিদের সব ধরনের সহযোগিতা করেছেন। এ বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৪৫০ হেক্টর জমির বাগানে সাড়ে ৬শ মেট্রিক টন লিচু উৎপাদন হবে বলে আশা করি। যার বাজার মূল্য অন্তত ১৫ কোটি টাকা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত