শিরোনাম

হাঁস পালনে স্বাবলম্বী ছকিমুদ্দিন

প্রিন্ট সংস্করণ॥ইমতে আহসান শিলু, কুড়িগ্রাম  |  ০৭:৫৩, মে ১৭, ২০১৯

কুড়িগ্রামে ২৫ বছর ধরে হাঁস পালন করে জীবিকা নির্বাহ করছেন এক খামারি। সদর উপজেলার পাঁচগাছি ইউনিয়নের পানাতি পাড়া গ্রামের দরিদ্র পরিবারের সন্তান ছকিমুদ্দিন অর্থাভাবে লেখা পড়া করতে পারেননি। পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা দিনমজুরি করার জন্য বললেও সেদিকে না গিয়ে আজ থেকে ২৫ বছর আগে প্রাথমিকভাবে ৪০টি হাঁস স্থানীয় হাট থেকে কিনে এনে পালন শুরু করেন।

তখন থেকেই জীবন জীবিকা নির্বাহের তাগিদে শত অভাব অনটনের মাঝেও খেয়ে না খেয়ে তিনি দিনমান হাঁস নিয়ে পড়ে থাকতেন। বাড়ির পার্শ্ববর্তী জলাশয়ের জলজ প্রাণী খেয়ে তার হাঁস বাড়তে থাকে, বাড়তে থাকে তার খামারও । এখন তার খামারে ছোট বড় মিলে এক হাজার ২০০ হাঁস। ওই খামারি ছকিমুদ্দির সাথে কথা হলে তিনি জানান, ছোট বেলায় আমার বাবা বাড়িতে হাঁস পালন করতেন।

তখন থেকেই হাঁস পালনের প্রতি আমার ঝোঁক। পরবর্তীতে আমার বাবা মারা যাওয়ার পর প্রতিবেশীরা আমাকে দিনাজপুর, বগুড়ায় কাজ করতে যাওয়ার জন্য বলত। তখন আমি ক্ষেতেখামারে কাজ করতে বাইরে না গিয়ে স্থানীয় যাত্রাপুর হাট থেকে প্রথম ৪০টি হাঁসের বাচ্চা কিনে এনে পালতে শুরু করলাম।

সেই থেকেই আমাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। পরবর্তীতে এই হাঁসের খামার দিয়েই আমি জমি এবং গরু-ছাগল কিনেছি, বাড়িঘর করেছি। সন্তানদের লেখাপড়া করাচ্ছি। এ খামারের মাধ্যমে আমার সংসারের অনেক উন্নতি হয়েছে।

তিনি জানান, আমি খাকি ক্যাম্বেল জাতের এক দিনের বাচ্চা ২০ থেকে ২৫ টাকায় কিনে এনে তা বড় করি। এসব বাচ্চা চার থেকে পাঁচ মাস পর ডিম দেয়। কিছু ডিম পাড়ার জন্য রাখি আর বাকিগুলো প্রতিটি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি করি।

আমার এ খামার দেখে আশেপাশের অনেক যুবক এখন হাঁসের খামার তৈরি করছে। ছকিমুদ্দিনের স্ত্রী মোসলেমা বেগম জানান, আমার বিয়ের পর এ বাড়িতে এসে দেখি হাঁসের খামার পরিচালনা করে আমার স্বামী। সেই থেকে আমিও তার হাঁস পালনে সহায়তা করছি।

এই হাঁস পালনের মাধ্যমেই আমাদের সংসার চলে। এ থেকেই আমাদের সংসারের অনেক উন্নতি হয়েছে। পাশ্ববর্তী তরুণ হাঁস খামারি লিমন মিয়া জানান, আমি ছকিমুদ্দি ভাইয়ের হাঁসের খামার দীর্ঘ দিন থেকে দেখে আসছি। আমি তার হাঁসের খামার দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেও বামণডাঙ্গা থেকে একদিন বয়েসী ৫০০ হাঁসের বাচ্চা নিয়ে এসেছি। বর্তমানে বাচ্চাগুলোর বয়স একমাস।

একটি বাচ্চাও কোনো প্রকার রোগে আক্রান্ত হয়নি। আশা করছি, খামারের পরিধি আরো বাড়াব। এ ব্যাপারে জেলা পশু সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল হাই সরকার জানান কুড়িগ্রাম নদীনালা খালবিলে ভরপুর।

এখানে অনেক উন্মুক্ত জলাশয় রয়েছে তাই বেকার যুবকরা হাঁসের খামার করে বেকারত্ব ঘোচানোর সুযোগ রয়েছে। জেলায় ছোট বড় মিলে দুই শতাধিক হাঁসের খামার রয়েছে। আমরা এ ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করছি। কেউ নতুন করে খামার করতে চাইলে আমরা বিভিন্ন মুখি সহযোগিতা করব।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত