শিরোনাম

পুদিনা চাষ করে স্বাবলম্বী সিরাজদিখানের চাষীরা

আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ)  |  ১৫:৩৩, মে ১৬, ২০১৯

 

সিরাজদিখানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পুদিনার চাষ করা হচ্ছে। এতে লাখ লাখ টাকা আয়ও করেছেন অনেক কৃষক। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, উপজেলার বালুরচর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৭ হেক্টরের অধিক জমিতে পুদিনা পাতার চাষ হয়। বিশেষ করে চান্দের চর,খাস্কান্দি,ও মদিনা পাড়ায় ব্যাপক হারে পুদিনার চাষ করা হয়। পুদিনার অনেক জাত রয়েছে। এর মধ্যে পিপারমেন্ট, স্পিয়ার মেন্ট ও অ্যাপেল মেন্ট হলো পুদিনার সবচেয়ে উন্নত জাত। জাপানি অরিজিন হলো আমাদের দেশের আবহাওয়ার সাথে সহনশীল।

সরেজমিন দেখা যায় চান্দের চর, খাস্কান্দিও মদিনা পাড়ার এলাকার উঁচু জমিগুলোতে ব্যাপকভাবে পুদিনার চাষ করা হয়। এসব এলাকার কৃষক সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্ষেতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। কেউ ক্ষেত থেকে পুদিনা পাতা তুলছেন, কেউ ছোট ছোট আঁটি বাঁধছেন। আবার কেউ আঁটি বাঁধা পুদিনা বিক্রির জন্য বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন। কেউ ক্ষেতের আগাছা পরিষ্কারসহ নানা ধরনের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।দেশের শহরগুলোতে চাইনিজ রেষ্টুরেন্ট, পাঁচতারা হোটেলে ও বিয়ে বাড়িতে পুদিনার ব্যবহার বেড়েছে আগের তুলনায় অনেক।

বিশেষ করে রমজান মাসে বড়া, চাটনি, সালাত, বোরহানি বানানোর কাজে ব্যাপক হারে পুদিনাপাতা ব্যবহার হয়। এছাড়া বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী বিশেষ করে টুথ পেষ্ট, তামাক, চা, সরবত, মিন্ট চকলেটসহ বিভিন্ন প্রসাধন সামগ্রীতে পুদিনার ব্যবহার রয়েছে। তাই পুদিনা চাষও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর পুদিনাপাতার সবচাইতে বেশি চাহিদা হলো বিয়ে বাড়িতে বোরহানি বানানোর কাছে কারণ পুদিনাপাতা ছাড়া বোরহানি অর্জিনাল বোরহানি হয়না।

কৃষক মো.সামছুউদ্দিন বলেন, উপজেলার বালুরচর ইউনিয়নের চান্দের চরে সর্বপ্রথম পুদিনা চাষ শুরু করি আমরা। ৪৫ বছর আগে আমাদের পূর্ব পুরুষেরা জমিতে পুদিনা চাষ শুরু করে। প্রথম বছরই পুদিনা বিক্রি করে বেশ লাভবান হয় পরবর্তীতে পুদিনা চাষ আরো বাড়াতে থাকে। পরে দেখাদেখি এলাকার অনেক কৃষক পুদিনা চাষে ঝুঁকে পড়েন।

তিনি আরো বলেন,আমরা সারা বছর বিভিন্ন ধরনের ক্ষেত খামার নিয়ে ব্যস্ত থাকি। অন্যান্য ক্ষেত শেষ করে জমি যখন অবসর থাকে তখন পুদিনার চাষ করি। আউশের চারা রোপণ বা আমনের বীজতলা তৈরির আগে পুদিনার ক্ষেত শেষ হয়ে যায়। মাঝখানে এই স্বল্প সময়ের মধ্যে পুদিনা চাষ করে বাড়তি আয় হয়।

আবহাওয়া অনুকুল থাকায় রমজানকে ঘিরে পুদিনাপাতার ব্যাপক বাজারজাত করা হচ্ছে। তবে এই চাষের জন্য বর্তমানে যে আবাহাওয়া রয়েছে এতে মোটামোটি ভাল, বেশি বৃষ্টি আবার কম বৃষ্টি কোনটাই এই চাষের জন্য উপকারী না। সবচেয়ে ক্ষতি হয় পানি কম থাকলে, বেশি বৃষ্টিতেও তেমন ক্ষতি হয়না। পরিবেশ অনুকুলে থাকলে এ বছর রমজানে ভালো অর্থের পুদিনা বাজারজাত করতে পারবো বলে আশা করছি। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, এই চাষটি পুরো বছর জুড়ে করা যায়, তবে রজমানের সময় এর চাহিদা কয়েকগুন বেড়ে যায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবোধ চন্দ্র রায় জানান, পুদিনা পাতার চাষ বানিজ্যিক ভাবে শুধু উপজেলার বালুরচর ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকাতেই হয় তাছাড়া জেলাতে আর হয়না। প্রায় ৭ হেক্টরের অধিকের মতো পুদিনাপাতার চাষ হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত