শিরোনাম

লালপুরে বোরো ধান কাটা ও মাড়াইয়ের ধুম

মো. আশিকুর রহমান টুটুল, লালপুর (নাটোর)  |  ১১:৫১, মে ১১, ২০১৯

নাটোরের লালপুরে চলতি মৌসুমে ইরি-বোরো ধান কাটা ও মাড়াইয়ের ধুম পড়ে গেছে। উপজেলার লালপুর চর, দুয়ারিয়া, দুরদুরিয়া, আড়বাব, কদিমচিলান, সালামপুর, বরবরিয়া ও আব্দুলপুরের কৃষকরা তাদের রক্তজলকরা সোনালী ধান ঘরে তোলার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন । তবে ন্যায্য মূল্য না পাওয়া, চড়া পারিশ্রমিক ও শ্রমিক–সংকটের কারণে জমি থেকে পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়েও শঙ্কিত এই এলাকার চাষিরা।

গত বৃহস্পতিবার ০৯ মে বিকেলে গিয়ে দেখা যায়, বরবরিয়া গ্রামের ধান চাষী মুনতাজ ও সালামপুর গ্রামের ধান চাষী গোলাম মোস্তফা তাদের জমির পাকা ধান মাড়াই করছেন। ধান কাটা ও মাড়াই কাজে কৃষক পরিবারের নারী-পুরুষ সবাই ব্যস্ত। পুরুষেরা শ্রমিকদের সঙ্গে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ করছেন। আর নারীরা ধান শুকাচ্ছেন।

শতব্যস্ততা দেখেও কথা বলতে চাইলে তারা বলেন, ‘মাঠের সব জমির ধান এখনো সম্পূর্ণ পাকেনি। যেসব জমির ধান পেকেছে চাষিরা সেই জমির ধান আগে কাটছেন। গত কয়েক দিন আগের কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টিতে কিছু ক্ষতি হলেও ইরি-বোরো ধানের ফলন আশানুরূপ হবে। তবে বাজারে ধানের যে দাম তার চেয়ে উৎপাদন খরচ অনেক বেশি। তবুও কষ্টের পাকা ধান সবাই তাড়াতাড়ি কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন। কিন্তু শ্রমিক–সংকট, উচ্চ পারিশ্রমিক ও পরিবহন–সংকটে কাঙ্খিত সময়ের মধ্যে পাকা ধান ঠিকঠাক ঘরে তোলা নিয়ে চিন্তায় আছেন তাঁরা।’

অপর এক ধানচাষী বলেন, ‘আমার ৫বিঘা জমির ধান পেকে আছে কিন্তু শ্রমিক সংকটের জন্য কাটতে পারছিনা। শ্রমিক সংকটের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের এই এলাকায় তেমন বোরো ধানের চাষ হয় না। আর এই জন্য এই এলাকার শ্রমিকরা পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকায় ধান কাটতে চলে গেছে, যার জন্য এখন শ্রমিকের সংকট।’

জানাগেছে, লালপুর থানা উচুঁ ও কমবৃষ্টিপাতের এলাকা হওয়ার কারণে এই এলাকতে তেমন বোরো ধানের চাষ হয়না। এখানকার কৃষকরা শুধু বর্ষা মৌসুমে রোপা আমন ধানের চাষ করে থাকে। ‘চলতি মৌসুমে উপজেলার দুয়ারিয়া, দুরদুরিয়া, আড়বাব, কদিমচিলান, লালপুর এলাকায় ৯৭০ হেক্টোর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে।

এই তথ্য দিয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার রফিকুল ইসলাম দৈনিক আমার সংবাদ কে বলেন, ‘এই উপজেলায় কিছু এলাকায় বোরো ধানের চাষ হয়েছে। মৌসুমের মাঝখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলেও ধান ভালো হয়েছে। আশা করছি এবছর বোরো ধানের আশনুরূপ ফলন হবে। পাকা ধান দ্রুত জমি থেকে কেটে নেয়ার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত