শিরোনাম

ঋণ পরিশোধ করে সর্বস্বান্ত কৃষকরা!

প্রিন্ট সংস্করণ॥মো. আব্বাস উদ্দিন (শেরপুর) ঝিনাইগাতী  |  ০৪:৩৯, মে ০৯, ২০১৯

শেরপুর জেলায় চলতি বোরো মৌসুম বিভিন্ন ব্যাংক, এনজিও ও সুদখোর মহাজনদের থেকে ঋণ-দফা করে ধান চাষাবাদ করেছে। এখন বোরো পাকা ধান কাটা-মাড়াই করে পানির দামে ধান বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করছে কৃষকরা। এতে অত্রাঞ্চলের কৃষকরা লাভের পরিবর্তে লোকসান গুণে সর্বস্বান্ত হচ্ছে।

বর্তমান ধানের বাজারমূল্য প্রতি মণ ধান ৪শ থেকে ৫শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ প্রতি মণ ধান চাষাবাদ খরচ প্রায় ৫শ টাকার ঊর্ধ্বে। কিন্তু ধান বিক্রি করতে হচ্ছে ৫শ টাকা কম মূল্যে। এতে করে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

পাশাপাশি বেশ কিছু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে রাতের অন্ধকারে গ্রাম ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। আবার অনেকেই দাদনের টাকা দিতে ঘরবাড়ি, গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি এমনকি শেষ সম্বল ভিটামাটি বিক্রি করে তাদের দাদনের টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছে।

এ ছাড়া দাদন ব্যবসায়ীদের সুদের টাকার কোনো নির্ধারণ নেই। তাদের ইচ্ছামাফিক নেয় সুদ। মনে হয় মগের মুল্লুক। এভাবেই চলে সুদের হার।

অনেক ব্যবসায়ী বা কৃষক স্বল্প সময়ের জন্য ঋণ নিয়ে পরিশোধ করার ইচ্ছা থাকলেও কোনো কারণে উক্ত টাকা পরিশোধ করতে না পারলে তখন ফসল, জমি-জমা বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করতে হয়। মূলত দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ঋণ নেয়া হয় সাময়িক অভাব নিরসনের জন্য।

কিন্তু পরবর্তীতে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে সর্বস্ব খোয়াতে হয় এই ঋণের হাত থেকে বাঁচতে। এসব কিছু দেখে মনে হয় এই সুদ নিয়ন্ত্রণ বা তদারকির যেনও কেউ নেই। পরবর্তীতে এই ঋণের টাকা সুদে-আসলে না দিতে পারলেই নানা ধরনের চাপ প্রয়োগ চলে দিনের পর দিন।

একপর্যায়ে দাদন ব্যবসায়ীদের ঋণের টাকা ফেরত দিতে না পারলে নানান নির্যাতন চালায় ঋণ গ্রহীতাদের ওপর। এসব দাদন ব্যবসায়ীর পাশাপাশি বেসরকারি বিভিন্ন এনজিও প্রতিষ্ঠানও চড়া সুদে কৃষকের কাছ থেকে জমি-জমার কাগজপত্র ও ব্যাংকের সাদা চেক-এ স্বাক্ষরসহ বন্ধক রেখে ঋণ দিতে হয়।

ভবিষ্যতে এইসব কৃষকরা এই চড়া সুদের টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে বাড়িঘর, জমি-জমা বিক্রি করে সর্বস্বান্ত হতে হয়। তাই এসব দাদন ব্যবসায়ী ও এনজিওদের সরকারি তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ করা অতিব জরুরি বলে মনে করেন বিজ্ঞ মহল।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত