শিরোনাম

নওগাঁয় এক কৃষকের আহাজারি

প্রিন্ট সংস্করণ॥এম আর রকি, নওগাঁ  |  ০৫:১২, মে ০৭, ২০১৯

নওগাঁয় এক ভুটভুটিচালকের জীবন ধারনের সম্বল ভুটভুটি পুড়িয়ে দেয়াসহ ১০ কাঠা জমির পটোল ক্ষেত উপড়ে নষ্ট করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ফলে এনজিও থেকে নেয়া ঋণের কিস্তি চালাবেন কিভাবে এবং স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তান নিয়ে সামনের দিনগুলোর জন্য অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার খোর্দ্দনারায়ণপুর নিচপাড়া গ্রামে গত রোববার রাতে কোনো একসময় ওই ঘটনা ঘটে। ওই গ্রামের মিঠু মণ্ডল ও স্বাধীনসহ বেশ কয়েকজন বলেন, গ্রামের জাইদুল রহমানের ছেলে জুয়েল (২৭) এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে একটি ভুটভুটি কিনে চালানোর পাশাপাশী প্রতিবেশী হামিদ মৌলভীর ১০ কাঠা জমি বন্দক নিয়ে পটোল চাষ করে সংসার চালিয়ে আসছিলেন।

গত ৩০ এপ্রিল রাতে বাড়ির খলিয়ানে রাখা ভুটভুটিতে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় দিশেহারা হয়ে পড়েন দরিদ্র জুয়েল। এ ঘটনার জের শেষ না হতেই রোববার সকালে বিক্রির জন্য পটোল তুলতে ক্ষেতে গিয়ে জুয়েল দেখতে পান, তার ১০ কাঠা জমিতে রোপণকৃত সম্পূর্ণ পটোলের গাছ উপড়ে তুলে ফেলে গেছে দুর্বৃত্তরা।

মুহূর্তের মধ্যে ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে গ্রামের লোকজন ঘটনাস্থলে ভিড় জমান। তারা দুঃখ প্রকাশ করে দুর্বৃত্তদের শাস্তি কামনা করেন। এ ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্ত ভুটভুটিচালক হতদরিদ্র জুয়েল বলেন, আমার সাথে জায়গা বা জমি নিয়ে কারো বিরোধ নেই। আমি এনজিও থেকে ঋণের টাকা কিস্তিতে নিয়ে একটি ভুটভুটি কিনে চালানোর পাশাপাশি পটোল চাষ করে সংসার চালিয়ে আসছিলাম। মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে প্রথমে ভুটভুটি পুড়িয়ে দিলো, এর পরই গত রাতের কোনো একসময় আমার জমির সম্পূর্ণ পটোলের গাছ উপড়ে নষ্ট করেছে দুর্বৃত্তরা।

এতে শুধু পটোল ক্ষেতেরই আনুমানিক প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। জুয়েল আরো বলেন, আমি গরিব মানুষ; আমার যে ক্ষতি করা হয়েছে এখন আমি স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তানকে কি খাওয়াবো এবং এনজিও থেকে নেয়া ঋণের টাকার কিস্তিই কিভাবে দেবো। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিয়েছে জুয়েল। কিন্তু কোনো দুর্বৃত্তকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত