শিরোনাম

ধরলা চরের মাদক ডনরা এখন তরমুজ চাষি

প্রিন্ট সংস্করণ॥এস আর শরিফুল ইসলাম রতন, লালমনিরহাট  |  ০৬:৩৯, মে ০৬, ২০১৯

সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে বদলে গেছে ধরলা চরের একটি গ্রামের চিত্র। ওই গ্রামের মাদকের ডনরা এখন কৃষি কাজের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। লালমনিরহাটের ধরলা নদীর বালু চরে রসালো তরমুজ চাষ করে আশপাশের চাষিদের অবাক করে দিয়েছে চর মাদকের ডনরা। চাষ পদ্ধতি জানলে ধু-ধু বালুতেও সোনা ফলানো যায়- একথাটি প্রমাণ করেছে তারা। তারা শুধু মাদক ব্যবসায়ী নন- তারা এখন সফল চাষি।

যার পুরো কৃতিত্ব পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হকের। যার সফল প্রচেষ্টায় শত শত মাদক ব্যবসায়ী আলোর পথে ফিরে এসেছে। অনুসন্ধান চালিয়ে জানা যায়, জেলার আদিতমারী উপজেলার ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা একটি ইউনিয়নের নাম দুর্গাপুর। এ ইউনিয়নের কুঠিবাড়ি চর গ্রামের মানুষ ধরলা নদীর ভাঙনে ভিটেমাটি ও ফসলি জমি হারিয়ে দিশাহারা। জীবন জীবিকা নির্ভর একমাত্র ফসলি জমি ও মাথা গোঁজার ঠাঁই টুকু ধু-ধু বালু চরে পরিণত হয়েছে।

ফলে সংসার চালাতে কেউ কেউ মাদকের মতো চোরাচালানের সাথে যুক্ত হয়ে পড়ে। একটি চরাঞ্চলের গ্রামে বছরের পর বছর মাদক ব্যবসা অব্যাহত থাকার কারণে গ্রামটি মাদকের আখড়া হিসেবে পরিচিত পায়। একসময় সেখানে প্রতিদিন শত শত বোতল মাদক আদান প্রদান হতো। কেউ এটি বন্ধ করতে পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। অথচ সেই গ্রামের মাদকের পুরো চিত্র বদলে দিয়েছেন পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক।

সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টিতে পুলিশ সুপার সীমান্ত এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে মাদক ব্যবসার পরিণতি সর্ম্পকে ধারণা দেন। মাদক ব্যবসা বন্ধের প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রাখেন। ফলে ২-৩ বছর ধরে প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযানে অনেকেই এপথ থেকে ফিরে এসেছেন। অন্ধকার থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে চরের মাদকের ডনরা বিভিন্ন চাষাবাদ ঝুঁকে পড়েন। চলতি মৌসুমে প্রায় ২০ জন মাদক ব্যবসায়ী তরমুজ চাষাবাদ করছে।

তাই মাদকে জনপদ চরাঞ্চলে দিন দিন বাড়ছে চাষির সংখ্যা। নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক তরমুজ চাষি বলেন, এবার চলতি মৌসুমে ওই এলাকায় প্রায় ৩০ জন চাষি তরমুজ চাষাবাদ করছে। ৮-১০ জন তরমুজ চাষি বাদে বাকি চাষিরা চোরাচালান সাথে জড়িত ছিলেন। তারাও এবার তরমুজ চাষাবাদসহ বিভিন্ন কৃষি কাজে নিজেকে আত্মনিয়োগ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সব চাষিদের আয়ের স্বপ্ন পূরণ হবে এমনটাই তারা আশা করছেন।

অন্ধকার থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে চাষাবাদ ঝুঁকে পড়েন। এ ব্যাপারে আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদ রানা বলেন, পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক যোগদানের পর জোড়ালো অভিযানে আদিতমারীসহ গোটা জেলায় অনেকটাই মাদক শূন্য হয়ে পড়েছে।

মাদক ব্যবসায়ীরা অন্ধকার থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন। অনেক চরের মাদক ব্যবসায়ীরা এবার তরমুজ চাষাবাদে লাভবান হয়েছেন। তাই তারা মাদক ব্যবসা ছেড়ে কৃষি কাজে নিজেকে আত্মনিয়োগ করেছেন।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত