শিরোনাম

নাগরপুরে কমছেই না নিষিদ্ধ তামাক চাষ

প্রিন্ট সংস্করণ॥নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি  |  ০৬:৩৪, মে ০৬, ২০১৯

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে কোনোভাবেই কমছেনা ক্ষতিকর নিষিদ্ধ তামাকের চাষ। রীতিমতো বসছে তামাক বেচাকেনার হাট। ক্ষতির কথা জেনেও শুধুমাত্র বেশি লাভের আশায় তামাক চাষের দিকে ঝুঁকছে কৃষক। এতে করে একদিকে যেমন পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষকরাও ভুগছে নানাধরনের স্বাস্থ্য সমস্যায়।

জানা যায়, একসময় উপজেলার চরাঞ্চলখ্যাত মোকনা ও পাকুটিয়া ইউনিয়নের জমিতে চাষকরা হতো ধান, পাট, গমসহ নানা ধরনের শাক-সবজি। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন সিগারেট, বিড়ি ও জর্দ্দা কোম্পানির প্রলোভনে পড়ে নাগরপুর উপজেলার মোকনা ও পাকুটিয়া ইউনিয়নের ধলেশ্বরী নদী তীরবর্তী এলাকার কৃষকরা শুরু করেছে বিষাক্ত তামাক চাষ। চাষে খরচ কম, লাভ বেশি।

তাই অতিরিক্ত মুনাফার আশায় ক্ষতির কথা চিন্তা না করে কৃষকরা দিনদিন ঝুঁকে পড়ছে তামাক চাষে। তাছাড়া তামাক চাষে কারগিল নামক সার প্রয়োগের ফলে চাষি ও তার পরিবারের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে। এতে করে একদিকে যেমন পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে- ফসলি জমি উর্বর শক্তি হারাচ্ছে। সেই সাথে কৃষকরা ভুগছে নানা ধরনের জটিল স্বাস্থ্য সমস্যায়।

সরেজমিন উপজেলার মোকনা ইউনিয়নের কেদারপুরে অস্থায়ীভাবে বসা দুটি হাটে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ব্যারেল বেঁধে কৃষকরা দূর-দূরান্ত থেকে তাদের উৎপাদিত তামাক নিয়ে আসছে। আর সেখানে অপেক্ষারত বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিরা (যাদের সাথে আগে থেকেই কৃষকদের চুক্তি করা) তামাক দেখে দাম নির্ধারণ করে নিচ্ছে। ইউনাইটেড ঢাকা টোব্যাকোর মাধ্যমে এবার তামাক সংগ্রহ করছে জাপান টোব্যাকো লিমিটেড।

জাপান টোব্যাকোর প্রতিনিধি জাহিদুর রহমান জানান, আমরা এখান থেকে তামাকের গুণাগুণ দেখে ৮৪ থেকে ১০৮ টাকা কেজি দরে কিনে নিচ্ছি। এ বছর এখান থেকে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ১৫০ মেট্রিক টন। হাটে গিয়ে কথা হয় কৃষক রিপন মিয়ার সাথে তিনি জানান, তামাক চাষে খরচ কম এবং লাভ বেশি হওয়ায় আমি দীর্ঘ আট বছর যাবৎ তামাক চাষ করছি।

সেই সাথে চাষ করার আগে কোম্পানির প্রতিনিধিরা তামাক চাষ করতে অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকে। সরকারি কোনোরূপ নিষেধাজ্ঞা না থাকার ফলে কৃষকদের এ বিষবৃক্ষ চাষে উৎসাহ যোগাচ্ছে টোব্যাকো কোম্পানিগুলো। তামাক চাষে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো অগ্রিম টাকা, বীজ ও সার প্রদান করে বিভিন্নভাবে তামাক চাষে সাহায্য সহযোগিতা করছে।

নাগরপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশে তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণ ও উৎপাদন বন্ধ করে সরকার বিকল্প কৃষিপণ্য উৎপাদনে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করায় এবং আমাদের কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের তৎপরতায় নাগরপুর উপজেলায় প্রতিবছর তামাক চাষ কমছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইমরান হোসাইন শাকিল বলেন, এ বছর নাগরপুর উপজেলায় ৩০ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ করা হলেও তা গত বছরের তুলনায় অনেক কম। কৃষকদের তামাক চাষ থেকে নিরুৎসাহিত করার জন্য উঠান বৈঠকের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকার পরার্মশ দেয়া হচ্ছে।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত