শিরোনাম

সিরাজদিখানে টিয়া পাখি ও পোকার আক্রমণে দিশেহারা চাষীরা

আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ)  |  ১৭:৪৬, এপ্রিল ২২, ২০১৯

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে ভুট্টা ক্ষেতে টিয়া পাখিসহ পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। সপ্তাহ খানেকের ব্যবধানে ফল আর্মি ওয়ার্ম নামে এক ধরণের পোকার এ আক্রমণ দেখা যায়। আবাদ করা ভুট্টায় কীটনাশক ব্যবহার করেও পোকার হাতে রক্ষা মিলছে না চাষীদের। পোকার এ আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ভুট্টা চাষীরা। পোকার কারণে আবাদ করা ভুট্টার ব্যাপক ক্ষতির আশংকা করছেন উপজেলার কৃষকরা।

সরেজমিনে উপজেলার রশুনিয়া, লতব্দী, বালুরচর, কোলা, ইছাপুরা ইউনিয়নের গ্রাম গুলো ঘুরে ভুট্টা চাষের জমিতে পোকার এ আক্রমণের চিত্র পাওয়া গেছে। চাষীদের মতে, এ পোকা দেখতে অনেকটা লেদু পোকার মত হলেও এ গুলো লেদু পোকা নয়। ফল আর্মি ওয়ার্ম নামে এ পোকা ভুট্টা চারা বিনষ্টে বেশ হিংস্র বটে। এ পোকার আক্রমণে এক রকম দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ভুট্টা চাষীরা। কেননা- এ পোকা ভুট্টা চারার নরম কান্ড খেয়ে ফেলছে। একই সঙ্গে ভুট্টা চারার পাতা ও সবে মাত্র গজানো ফল সুদ্ধ খেয়ে ফেলছে। আর এ পোকা ভুট্টা ক্ষেত জুড়ে বংশ বিস্তার করে চলেছে। দিন দিন এ পোকা গোটা ভুট্টা ক্ষেতে ছড়িয়ে পড়ছে।

উপজেলার রশুনিয়া ইউনিয়নের হীরনের খিলগাও গ্রামের ভুট্টা চাষী লোকমান হোসেন চলতি মৌসুমে আলু চাষের বদলে ভুট্টা চাষ করেছেন জমিতে। বছর বছর আলুতে লোকসানের মুখে এ বছর ভুট্টা আবাদে লাভের স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু গেল কয়েক দিনের ব্যবধানে জমিতে ভুট্টা গাছে পোকার আক্রমণ দেখা দেওয়ায় তিনি এখন দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। পোকার আক্রমণ থেকে বাঁচতে তিনি এখন কি করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না। কোন ওষুধেই কাজ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ভুট্টা চাষী লোকমান। নতুন করে আবার টিয়া পাখির আক্রমণে আরো বিপাকে পড়েছেন।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্র জানাগেছে , এবছর উপজেলায় প্রায় ৮শ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। কিছুটা পোকার আক্রমণ হলেও কৃষকদের এখন আর ভয় নাই। এখন ফল আর্মি ওয়াম পোকার জন্য ফেরোমন ফাদ ও এসএনপিভি দেয়া হচ্ছে। এ ফাঁদের মাধ্যমে এ পোকা নির্মূল করা সম্ভব। তাই এ পোকার আক্রমণ এখন নিয়ন্ত্রনের মধ্যে চলে আসছে। কৃষি অফিস সূত্র আরো জানায়, ভুট্টা চাষের ১৫-২০ দিনের মধ্যে জমিতে ফেরোমন ফাদ ব্যবহার করলে চাষীদের এ পোকার আক্রমণের সমস্যায় পড়তে হত না। সাধারণত রবি মৌসুমে এ পোকা আক্রমণ করে থাকে।

সিরাজদিখান কৃষি কর্মকর্তা সুবোধ চন্দ্র রায় বলেন, এনিয়ে আমরা মিটিং করেছি। এবিষয় আমাদের কর্মকর্তারা তৎপর রয়েছে। এসমস্যা সমাধান হয়েছে। তবে টিয়া পাখি পোকা খাবার জন্য আসতে পাড়ে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত