শিরোনাম

সরিষাবাড়ীতে ভুট্টার বাম্পার ফলনেও হতাশ কৃষক

প্রিন্ট সংস্করণ॥রাইসুল ইসলাম খোকন, সরিষাবাড়ী  |  ০১:৩৬, এপ্রিল ১৯, ২০১৯

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার আটটি ইউনিয়নে ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষক অধির আগ্রহে মনের খুশিতে মাঠে কাজ করছে। চরাঞ্চলের এলাকাজুড়ে এখন শুধু হলুদ ভুট্টা শোভা পাচ্ছে। ঝিলমিল করছে ভুট্টার দানা। কিন্তু দাম কম হওয়ায় হতাশায় কৃষক। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার পোগলদিঘা, পিংনা, আওনা, ডোয়াইল, কামরাবাদ, ভাটারা ইউনিয়নের অধিকাংশ প্রান্তিক ও চরাঞ্চলের চাষিরা ভুট্টা চাষ করেছে। অন্য ফসলের তুলনায় ভুট্টা চাষ কম খরচে বেশি লাভজনক হওয়ায় এ ভুট্টা চাষ করছেন তারা। এতে খরচ কম ফলন বেশি। পানি সেচও তেমন বেশি দিতে হয় না। এক বিঘা জমিতে ধান চাষ করলে ১৪ থেকে ২০ মণ ধান হয়, অপর দিকে এক বিঘা জমিতে ভুট্টা হয় থেকে ৩৮ থেকে ৪০ মণ। দামেও তেমন পার্থক্য নেই। কীটনাশক সারের ব্যবহারও কম। গত বছরের চেয়ে অধিক হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে অনেক বেশি। জমিতে ফলনের আকৃতি ভালো হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। অন্যান্য রবি শস্যের চেয়ে ফলন বেশি হওয়ায় ভুট্টার বাম্পার ফলন দেখা দিয়েছে। কিন্তু দাম নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষক। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত বছর এ উপজেলার ৬৫০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছিল। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে এক হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা আবাদ করছেন কৃষকরা। তা ছাড়া ভুট্টার আখ গোখাদ্য আর ডাটা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হওয়ায় এ জন্যও কৃষক ভুট্টা চাষে আরো বেশি আগ্রহ সহকারে এ আবাদ করে থাকেন। চরাঞ্চলের ভুট্টাচাষিরা অন্য ফসলের চেয়ে ভুট্টাকে এখন একমাত্র ফসল হিসেবে বেছে নিয়েছেন। গত বছর যে মূল্য পেয়েছেন তার চেয়ে বেশি মূল্য থাকলে বন্যায় অন্য ফসলের যে ক্ষতি হয়েছে তা কিছুটা হলেও পুশিয়ে নিতে পারবেন এই ভুট্টা চাষে। পোগলদিঘা ইউনিয়নের বয়ড়া বাজারের ভুট্টাচাষি আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমি এ বছর তিন বিঘা জমিতে ভুট্টার আবাদ করেছি। যা গত বছরের চেয়ে বেশি জমিতে ভুট্টা আবাদ করেছি। এ বছর যেমন দেখছি, তাতে বিঘাতে ৩৫ মণ ছাড়িয়ে যাবে অশা করছি। তবে দাম কম হওয়ার কারণে আমাদের লোকসান গুনতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত