শিরোনাম

হাওরাঞ্চলে বোরো ধানে চিটা!

প্রিন্ট সংস্করণ॥শফিকুল আলম শাহীন, নেত্রকোনা  |  ০৫:০২, এপ্রিল ১১, ২০১৯

ধান উদ্বৃত্ত জেলা হিসেবে পরিচিত নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে ব্যাপক হারে বোরো ধানে চিটা দেখা দেয়ায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। নেত্রকোনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোনা জেলার পাঁচটি হাওর উপজেলাসহ ১০টি উপজেলায় বোরো আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারিত করা হয় এক লাখ ৮০ হাজার ৯৫২ হেক্টর জমি। শেষ পর্যন্ত আবাদ করা হয়েছে এক লাখ ৮৪ হাজার ৬০০ হেক্টর জমি। এর মধ্যে ২৩ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ধান, এক লাখ ৬০ হাজার ৪৮০ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল এবং তিন শত ২০ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। সবুজ ধান সোনালি বর্ণ ধারণ করার পর (ব্রিআর-২৮) ধানে চিটা দেখা দেয়ায় তাদের সেই স্বপ্ন অনেকটাই ফিকে হয়ে পড়তে শুরু করেছে। মাত্র কয়েকদিন আগেও যে কৃষক সোনার ফসল ঘরে তোলার স্বপ্নে আনন্দে উদ্বেলিত ছিল, আজ তাদের চোখে মুখে চরম হতাশার চাপ। প্রতি বছর চৈত্রের শেষ দিকে হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটা শুরু হয়। মোহনগঞ্জ উপজেলার ডিঙ্গাপুতা হাওর, শনির হাওর, তেঁতুলিয়া, গাগলাজুর, সুয়াইর, বরান্তর, হাটনাইয়া, আদর্শনগর, খালিয়াজুরী উপজেলার চাকুয়া, জগন্নাথপুর, পাঙ্গাসিয়া, কির্তনখোলা, কটিচাপরা, সেনের বিল, জালর বন, সোনাতোলা, বল্লীর চৌতরা, জগন্নাথপুরের বড় হাওর, বাজোয়াইল, পাঁচহাট, নগর, বোয়ালী, মদন উপজেলার মাঘান, গোবিন্দশ্রী, কদমশ্রী, গনেশের হাওরসহ বিভিন্ন হাওরে ধানে ব্যাপক চিটা দেখা দিয়েছে। খালিয়াজুরী উপজেলা সদরের কৃষক হারুন অর রশিদ বলেন, আমি ৩০ একর জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছি। এর মধ্যে ২৩ একর জমিতে ব্যাপক চিটা দেখা দিয়েছে। বল্লী গ্রামের কৃষক বাবুল মিয়া বলেন, তার ১৫ একর জমির ১৩ একর জমিতেই চিটা ধান হয়েছে। গছিখাই গ্রামের শফিকুলের ১৫ একরের মধ্যে ১০ একর চিটায় আক্রান্ত হয়েছে। এদিকে ধানে চিটা হবার কারণ নির্ণয়ের জন্য গাজীপুর কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের তিন বিজ্ঞানী প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহম্মদ আশিক, ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. হীরেন্দ্র নাথ বর্মন, উদ্ভিদ রোগতত্ব বিভাগের অফিসার ড. তুহিনা খাতুন নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুরী এবং মদন উপজেলার বিভিন্ন হাওর এলাকার আক্রান্ত বোরো জমি পরিদর্শন এবং কৃষকদের সাথে কথা বলেন। এ ব্যাপারে তারা কৃষকদের কিছু প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন। কর্মকর্তারা অভিমত দেন, ২৯ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত রাতে তাপমাত্রা ১০ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এবং দিনে ২৫ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকায় বীজতলা তৈরি ও চারা রোপণকালে বোরো ধানের চারা কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়। ফলে ধানে ব্যাপক আকারে চিটা দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে নেত্রকোনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-রিচালক মো. হাবিবুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি হাওরাঞ্চলে বোরো ধানে চিটা দেখা দেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, খালিয়াজুরী, মোহনগঞ্জ, মদন, এবং কলমাকান্দা উপজেলার হাওরাঞ্চলের প্রায় ছয় হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়েছে। বিষয়টি সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত