শিরোনাম

সিরাজদিখানে আলুর বাম্পার ফলন, দাম নিয়ে শঙ্কায় কৃষকরা

আব্দুল্লাহ আল মাসুদ,সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ)  |  ১৬:৪৬, মার্চ ১৯, ২০১৯

এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে অবিরাম বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে যাওয়ায় পচন ধরার শঙ্কার মধ্যে সিরাজদিখান উপজেলার কৃষকরা আলু উত্তোলন শুরু করেছেন। বিস্তৃর্ণ জমিতে এখন আলুু উত্তোলন আর জমিতে মজুদ করার চিত্র দেখা যায়। উপজেলার প্রধান অর্থকারি ফসল আলু নিয়ে কৃষকের ব্যস্ততার যেন শেষ নেই।

আলু ভিত্তিক অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে কৃষকরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে মাঠে কাজ করে যাচ্ছে। তবে বাম্পার ফলন হওয়া সত্যেও দাম কম ও আলুর আকৃতি ছোট হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। ফলনের তুলনায় আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় হতাশায় ভুগছেন অধিকাংশ কৃষক।

মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে আলু কোল্ডস্টোরাইজ করা ও দেশীয় পদ্ধতিতে নিজস্ব খামার বা কৃষকের বসতবাড়িতে সংরক্ষণ করা হয় । এই মৌসুমে উপজেলায় ৯ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ করা হয়েছে। সবমিলে আলুর ফলন ভালো হলেও আলুর আকার ছোট ও দাম কম হওয়ায় চিন্তিত কৃষকরা।

তবে গত দুই বছর আলুর বাম্পার ফলন হলেও দাম না পাওয়ায় উৎপাদন খরচও উঠে আসেনি কৃষকদের। চলতি মৌসুমের উৎপাদিত আলু যদি সরকার বিদেশে রফতানির ব্যবস্থা করে তাহলে গত বছরগুলোর লোকসান কিছুটা পুষিয়ে আসবে বলে মনে করেন কৃষকরা।

উপজেলার বয়রাগাদী ইউনিয়নের কৃষক ইলিয়াছ বলেন , খেত থেকে আলু উঠাই তখন ফলন দেখে খুব খুশি হইছি। আর যখন ব্যাপারীরা ফিরেও তাকায় না। দু’একবার তাকালেও যে দাম বলছে তাতে আমরা কৃষকরা হতাশ। অথচ এ রকম হওয়ার কথা না। কারণ খুচরা বাজারে আলুর দাম কম না।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মোহসিনা জাহান তোরনবলেন, সিরাজদিখানে এবছর প্রায় ৯ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টর জমিতে ৩৪ টন করে আলু হবে বলে আশাবাদ । আমরা কৃষকদের আলু তাদের বাড়ীতে মজুদ রাখার নানা পদ্ধতি সম্পর্কে পরামর্শ দিচ্ছি। কোল্ড স্টোরে রাখলে কৃষকদের খরচ বেড়ে যাবে। ঘরোয়া পদ্ধতিতে আলু কয়েক মাস বাড়ীতে মজুদ রাখলে কুষকরা ন্যায্য মূল্য পাবে।

আলু উত্তোলনের পর ন্যায্য মূল্যসহ বিদেশে রপ্তানি, পরিবহন ব্যবস্থা ও হিমাগারে সংরক্ষনের সুযোগ পাবে আলু উৎপাদনের সর্ববৃহত উপজেলার কৃষকরা। এমনটাই প্রত্যাশ্যা এ অঞ্চলের সকল কৃষক ও সর্ব সাধারণের।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত