শিরোনাম

শরিষা ছেড়ে মৌ চাষিরা এবার লিচু বাগানে

নাজমুল হাসান নাহিদ, গুরুদাসপুর (নাটোর)  |  ১৭:৪৬, মার্চ ১৪, ২০১৯

মৌ মৌ শব্দে মুখরিত গুরুদাসপুর উপজেলার লিচু বাগানের চারপাশ। শরিষা ক্ষেতের মৌ চাষিরা এবার এসেছে লিচু বাগানে লিচুর ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করতে। উপজেলার প্রায় ২০০টি বাগানে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসেছে এসকল চাষিরা। লাভজনক এ ব্যবসায় আগ্রহ বারছে চাষিদের। চলনবিল অধ্যুষিত এলাকা গুরুদাসপুর উপজেলার মধ্যে লিচু চাষ ভাল হয় । তাই এই এলাকাতে প্রতি বছরই বিভিন্ন জেলা থেকে মৌ চাষিরা আসে মধু সংগ্রহ করতে।

সরেজমীনে গিয়ে দেখা যায়, গুরুদাসপুর উপজেলার পৌর সদর, বিয়াঘাট, চাপিলা, নাজিরপুরসহ প্রায় সব গুলো লিচু বাগানে মৌ মাছির বাক্স বসিয়ে মধু আহরণ করছে চাষিরা। এর ফলে একদিকে যেমন মৌ চাষিরা মধু সংগ্রহ করে লাভবান হচ্ছেন, অন্যদিকে মৌ মাছির মাধ্যমে মুকুলে মুকুলে পরাগায়ন ঘটায় লিচু গাছ মালিকরা বাম্পার ফলনের আশা করছেন। চলনবিল অধ্যুষিত এই উপজেলায় “লিচু” গাছে মৌ চাষে ধুম পড়েছে। মৌ মৌ গন্ধে গাছে গাছে বাতাসে দোল খাচ্ছে লিচু’র মুকুল। বেদনা, বোম্বাই, মাদ্রাজি, চায়না থ্রি, কাঠালী সহ দেশীয় লিচু গাছগুলোতে এবার প্রচুর মুকুল ধরেছে। তাই, মৌ চাষিরা ব্যাস্ত মধু সংগ্রহ করতে। তাছারা বাগান মালিকরাও ব্যাস্ত সময় পার করছেন বাগান পরিচর্যায় এবং চাষীরা এখন কামনা করছে বৃষ্টির। আবহাওয়ার অনুকূলে থাকলে এবার কৃষিবিদরা লিচুর বাম্পার ফলনের আশা করছে।

এরমধ্যে সাতক্ষীরা, সিরাজগঞ্জ, ময়মনসিংহ, পাবনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মৌ চাষি এসে বাগানে ছোট বড় বিভিন্ন আকৃতির মৌমাছির বাক্স বসিয়ে বৈজ্ঞানিক উপায়ে মৌ চাষ করে মধু সংগ্রহ করছেন। বাগানে তারা শতাধিক ব্রুড ও নিউক্লিয়াস নামের ছোট বড় কাঠের বাক্স স্থাপন করেছেন। প্রতিটি বাক্সে একটি রানী মৌমাছি, একটি পুরুষ মৌমাছি ও অসংখ্য এপিচ মেইলিফ্রা জাতের কর্মী মৌমাছি রয়েছে। কর্মী মৌমাছিরা মৌ মৌ গন্ধে ঝাঁকে ঝাঁকে ছুটে যায় লিচুর মুকুলে। পরে মুকুল হতে মধু সংগ্রহ করে মৌমাছির দল নিজ নিজ কলোনিতে মৌচাকে এনে জমা করছে।

১০/১৫ দিন অন্তর অন্তর প্রতিটি বাক্স হতে চাষিরা ৬/৭ মণ মধু সংগ্রহ করছেন। যে লিচু গাছে মৌমাছির আগমন বেশি হয় সে গাছের মুকুলে পরাগায়ন ভাল হয়। ফলে ওই গাছে বা বাগানে লিচুর যেমন বাম্পার ফলনের সম্ভবনা থাকে, তেমনি মৌ চাষিরা বেশি মধু সংগ্রহ করে বাণিজ্যিকভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করতে পারে।

গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো.আব্দুল করিম বলেন, এই উপজেলায় মোট ৪১০ হেক্টর জমিতে এবার লিচু চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে মৌচাকের বক্স আছে ৮ হাজার। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এবার লিচুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা আছে। এবং বিভিন্ন জেলা থেকে আগত মৌ চাষিরাও লিচুর মকুল থেকে মধু সংগ্রহ করে অনেক লাভবান হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত