শিরোনাম

মাছ চাষে ভাগ্য বদল লাভলী ইয়াসমিনের

এম এ কবীর, ঝিনাইদহ (সদর)  |  ২০:০৪, মার্চ ১৩, ২০১৯

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোড়াহাটি ইউনিয়নের উত্তর কাস্টসাগরা গ্রামের নারী উদ্যোক্তা লাভলী ইয়াসমিন। মাছ চাষের মধ্যেই যার ভাগ্য লুকিয়ে ছিল। লুকিয়ে ছিল তার আর্থিক সচ্ছলতার গল্পও। নারী হয়েও ঘরে বসে থাকেননি তিনি। মাছ চাষ করে আর্থিক সচ্ছলতা ফেরালেন সংসারে। সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন একজন পরিশ্রমী মা ও সংসারী মেয়ে হিসেবে।

২০০১ সালে গ্রামের একটি পুকুর লিজ নিয়ে শুরু করেন রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভার কার্প মাছের চাষ। প্রথম বছরেই সাফল্যের মুখ দেখতে শুরু করেন তিনি। পরের বছর গ্রামের আরো দুটি পুকুর নিয়ে পুরো উদ্যোমে শুরু করেন মাছ চাষ। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তার। বর্তমানে আট একর জমিতে তিনি রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভারকার্প, গ্রাসকার্প, সাদাপুটি, তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করছেন। বর্তমানে তিনি স্বাবলম্বী। পাশাপাশি তার মৎস্য খামারে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে ২০ জন বেকার নারী-পুরুষের।

তিন সন্তানের জননী লাভলী ইয়াসমিনের স্বামী ২০০১ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বেকার অবস্থায় ছিলেন। ওই সময় তিন সন্তানের লেখাপড়া করেয়িছেন মৎস্য চাষ থেকে আয়কৃত অর্থ দিয়ে। বর্তমানে তার বড় ছেলে কামরুজ্জামান তানজীব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার, দ্বিতীয় ছেলে রাকিবুজ্জামান তানভীর বিএসসি কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার ও ছোট ছেলে হাসিবুজ্জামান রাহাত ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল কমার্স কলেজের ২য় বর্ষের ছাত্র।

মাছ চাষে সফল এই নারী উদ্যোক্তা ২০১২ সালের ১৩ জুন কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় সরকারিভাবে মালয়েশিয়ায় প্রশিক্ষণে অংশ নেন। ১৬ বছরের সংগ্রামী জীবনে লাভলী বর্তমানে মাগুরা ও ঝিনাইদহ শহরের দুখন্ড জমির মালিক। গ্রামে করেছেন পাকা বাড়ি। এছাড়াও কৃষিতে অবদান রাখায় ২০১৮ সালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। তার এই সফলতা দেখে এলাকার অনেকেই আগ্রহী হয়ে উঠেছেন মৎস্য চাষে।

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম সরোয়ার বলেন, সদর উপজেলা মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে লাভলী ইয়াসমিনকে সব প্রকার প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। তার দেখাদেখি এলাকার অনেক মানুষ মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্ট করছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত